ময়দা অঞ্চলে ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলন
মোমিন আলি লস্কর জয়নগর -(পশ্চিমবঙ্গ ভারত)
দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলার জয়নগর দুই নম্বর ব্লকের ময়দা অঞ্চলের বটতলা গ্ৰামেনবজাগরতী সংঘের পক্ষথেকে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়।ভারতের স্বাধীনতা লাভের ইতিহাস একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। এই স্বাধীনতা লাভের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস।ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ সাল থেকে ভারতে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারত শাসন করা শুরু করে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে থাকে এবং এর ফলস্বরূপ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে ওঠে। মহাত্মা গান্ধী অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৭ সালের ভারত ব্রিটিশ সরকার শেষ পর্যন্ত ভারত বিভাজন করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।
স্বাধীনতা দিবস হল ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একটি জাতীয় দিবস। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট (১৩৫৪ বঙ্গাব্দের ২৯ শ্রাবণ, শুক্রবার) ভারত ব্রিটিশ রাজশক্তির শাসনকর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। সেই ঘটনাটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতি বছর ১৫ আগস্ট তারিখটিকে ভারতে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রধানত অহিংস, অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলন এবং বিভিন্ন চরমপন্থী গুপ্ত রাজনৈতিক সমিতির সহিংস আন্দোলনের পথে পরিচালিত এক দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের পর ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতা আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ শহিদ হয়েছেন দেশ মাতৃকার শৃংখল-মোচনের জন্য অনেক বিপ্লবী হাসি মুখে ফাঁসির মঞ্চে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। অনেক বিপ্লবীকে আজীবন কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঠিক পূর্ব-মুহুর্তে ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্য ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজিত হয় এবং তার ফলে ভারত ও পাকিস্তান অধিরাজ্যের জন্ম ঘটে। ১ কোটি ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুহারা হন। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট জওহরলাল নেহেরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণের পর দিল্লির লাল কেল্লার লাহোরি গেটের উপর ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতের
প্রধানমন্ত্রী লাল কেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।আজ ১৫ই আগস্ট, আমাদের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস। এই বিশেষ দিনে, আমরা সেইসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করি, যাদের অসীম সাহস ও সংগ্রামের কারণে আমরা স্বাধীন একটি দেশে বাস করতে পারছি। তাই আমরা জাতী ধর্ম নির্বিশেষে আমরা সকলে মিলে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ ভাই ভাই একত্রে আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

আজ ময়দা অঞ্চলের বটতলা নবজাগরতী সংঘের উদ্যোগে 79 তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হলো উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সদস্য সদস্যা পতাকা উত্তোলন করলেন ময়দা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান নারায়ন মন্ডল (নবীন) ইয়াসিন মোল্লা, নুর আলম শেখ,হবিউল্লা পাইক, নাসির শেখ, তৈনুর সাঁপুই, ফারুক সাঁপুই, ইকবল সাঁপুই, সাদ্দাম লস্কর, আরো উপস্থিত ছিলেন ।নবজাগরতী সংঘের সহ সেক্রেটারি মনিরুল সাঁপুই বলেন ভারতবর্ষ ইংরেজদের বন্দী দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য গান্ধীজির নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেছিলেন।এই আন্দোলনের ফলে হাজার হাজার মানুষের রক্তের রাজপথ লাল হয়ে গিয়েছিল তুবিও ভারতের বীরযোদ্ধারা ইংরেজদের কাছে মাথা নতোকরনি ।এই আন্দোলনের হিন্দু, মুসলিম বৌদ্ধ সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এমনকি এই স্বাধীনতা জন্য অনেকের জেলে যেতে হয়েছিল,কেউ বা হাসতে হাসতে ফাঁসির দড়ি গলায় পড়ে নিয়েছে ।তবুও ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করেনি তাদের এই আত্মত্যাগ আজ আমাদের মনকে উৎপেড়িত করে তোলে। ভারতবর্ষের এইসমস্ত বীরযোদ্ধাদের আমরা কোনোদিন ভূলবোনা আমার ক্লাবের পক্ষথেকে ভারত বর্ষের স্বাধীনতার জন্য যারা রক্তদিয়ে দেশমাতাকে ইংরেজদের বন্দী দশার হাত থেকে ভারতবর্ষ কে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের আত্মা শান্তি কামনা চিরদিন তাদের কথা স্মরণ রাখার জন্য আজ ১৫ আগষ্ট আমাদের নবজাগরতী সংঘের উদ্যোগে আমরা ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি।
