দিদির পরার্মশে আমি সফল বললেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল

Spread the love

ওয়েব ডেস্ক:- বিপুল ভাবে ভোটে জেতার পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ‌মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে বললেন, ‘‌দিদির (পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি) সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ ও নিরন্তর যোগাযোগ রয়েছে। এবারেও ভোটের আগে গত কয়েক মাস ধরে আমি সব সময় দিদির পরামর্শ নিয়েছি। রাজনীতিতে তিনি অনেক অভিজ্ঞ।’‌‌ একান্ত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জয়ন্ত ঘোষাল।

প্রশ্ন:‌ পঁাচ বছর দিল্লি শাসনের পর আবার আপনি মসনদে আসীন। এক কথায় যদি জবাব দিতে হয়, তবে তার কারণ কী?
অরবিন্দ: এক কথায় জবাব, উন্নয়ন। এবার দিল্লির মানুষ ভোট দিয়েছেন নতুন নতুন স্কুল তৈরির জন্য। নতুন নতুন মহল্লা, হাসপাতালের জন্য। তঁারা ভোট দিয়েছেন ফ্রি বিদ্যুতের জন্য। নালি সাফ হয়েছে। ২০ লিটার শুদ্ধ পানীয় জল পাওয়া যাচ্ছে।
প্রশ্ন:‌ কিন্তু কেজরিওয়ালজি, অমিত শাহ, জে পি নাড্ডা এবং বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, উন্নয়নের যে–‌সব তথ্য আপনি দিয়েছেন, সে–‌সব সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে কেজরিওয়াল বলেছেন। কিন্তু এগুলো অসত্য। আপনি অসত্য বলেছেন!‌
অরবিন্দ: বিজেপি হল মিথ্যার ফ্যাক্টরি। ভগবানই ভরসা। দেখুন, এত মিথ্যে কথা বলা সত্ত্বেও, কিছু মানুষকে প্রভাবিত করলেও, মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন।
প্রশ্ন:‌ বিজেপি–‌র বক্তব্য, আপনি যে–‌সব উন্নয়নের কথা বলেছেন, তা মিথ্যে। এগুলো তো নরেন্দ্র মোদি করেছেন!‌
অরবিন্দ: দিল্লি সকলের। দিল্লি আমাদের। দিল্লি আপনার। বরং সিসিটিভি লাগানোর জন্য মোদিজিকে নির্ভয়া তহবিল থেকে টাকা চেয়েছিলাম। বলেছিলাম, দিল্লির নিরাপত্তার জন্য সমস্ত বাসে সিসিটিভি লাগাব। কিন্তু মোদিজি টাকা দেননি। লাজপত নগরে অমিত শাহ এক সভায় এসে বলেছিলেন ১৫ লাখ সিসিটিভি লাগাবেন। কোথায় সেটা, দূরবিন দিয়েও দেখা যাচ্ছে না।
প্রশ্ন:‌ গত পঁঁাচ বছরের প্রথম তিন বছর আপনি তীব্র মোদি–‌বিরোধিতা করেন। কিন্তু এবার ভোটের মুখে আপনি মোদি–‌বিরোধিতার লাইন ছেড়ে দেন। কংগ্ৰেস বলতে শুরু করে, কেজরিওয়াল বিজেপি–‌র সঙ্গে বোঝাপড়া করছেন!‌
অরবিন্দ: কোনও বোঝাপড়ার প্রশ্নই ওঠে না। বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল। না, কোনও কৌশল বদলও নয়। তবে আমার মনে হয়েছে, ২০১৪–‌তে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বারাণসীর মতো কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়াটা আমার ভুল হয়েছে। তখন জাতীয় স্তরে মোদির বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় মঞ্চ গঠনে যেভাবে আমি সক্রিয় হয়েছিলাম, তা সমালোচিত ছিল না। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, গোয়া— বাইরের এ–সব রাজ্যে না গিয়ে আমি দিল্লিকে অগ্ৰাধিকার দিতে চাই। দিল্লি দিলওয়ালেকা হ্যায়। আমি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লিকে সুন্দর করা, ধনী–‌গরিব সমস্ত মানুষকে সাহায্য করা আমার কাজ। দিল্লি সরকার একমাত্র সরকার, যা লাভে চলেছে। পঁঁাচ বছর আগেও দিল্লি সরকার লাভে চলছিল না। আসলে আমি বুঝতে পেরেছিলাম, জাতীয় স্তরে কংগ্রেস ও অন্য বিরোধী দলগুলি যতক্ষণ না শক্তিশালী হচ্ছে, ততক্ষণ মোদির মতো একজন শক্তিশালী নেতার সরকারকে সরানো সম্ভব নয়। আমাদের দল আপ শক্তিশালী, কিন্তু গোটা দেশ নয়। আমার শক্তি আঞ্চলিক। সেটি দিল্লির মধ্যে। তাই আমি দিল্লিকেই পাখির চোখ করেছিলাম। বিধানসভায় জেতাটা ছিল প্রাথমিক লক্ষ্য। লোকসভা নির্বা‍‌‌‌‌‌চনের তো দেরি আছে। ২০২৪ সাল নিয়ে পরে ভাবা যাবে। দেখুন, পশ্চিমবঙ্গেও দিদি বিপুল ভোটে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাস্ত করবেন। তার পর আমাদের আঞ্চলিক দলগুলির রাজ্যে নির্বাচন–পর্ব‌ হয়ে গেলে, আমরা জাতীয় স্তরে বিকল্পের খেঁাজে নতুন কৌশল নেব। তবে এটা দুর্ভাগ্যজনক, প্রধান জাতীয়তাবাদী দল কংগ্ৰেসরই অস্তিত্ব বিপন্ন। আমাদের অবস্থান হল কংগ্রেস ও বিজেপি, দুই দল থেকেই সমদূরত্ব বজায় রাখা। কংগ্রেসের বি টিম হিসেবে কাজ করতে আমি ভোটের সময়ও রাজি হইনি। আমাদের প্রথমে রেভলিউশন নামে একটি এনজিও ছিল। আমার সেই সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের, দেশের ও রাষ্ট্রের ভাল করার চেষ্টা করেছিলাম। তাতে কোনও রাজনীতি ছিল না। রাজনৈতিক দলের যাত্রা আমরা শুরু করেছিলাম দুর্নীতি–‌বিরোধিতার মাধ্যমে, লোকপালের দাবিতে। আন্দোলন করে। কংগ্রেস দীর্ঘকাল দেশ শাসন করেছে, তখনও আমরা টু–‌জি দুর্নীতি ও অন্য সব দুর্নীতির ব্যাপারে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব ছিলাম। কীভাবে আজ তা নিয়ে আপস করব?
প্রশ্ন:‌ কিন্ত শাহিনবাগ নিয়ে এবার যা হল, তাতে এখন আপনি কী বলবেন? শাহিনবাগ–কাণ্ডের পরেও আপনি জিতলেন। তা হলে কি শাহিনবাগ ভোটারকে প্রভাবিত করতে পারেনি? নাকি কাজ করেছে?
অরবিন্দ: সাধারণ ভাবে এটি মানুষকে সেভাবে প্রভাবিত করতে পারেনি বলেই মনে হচ্ছে। তা না–হলে এই ফলাফল হত না। তবে আমি প্রচারের প্রথমার্ধে এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্যই করতে চাইনি। কারণ, এই শাহিনবাগ বিজেপি বা অমিত শাহর সৃষ্টি, তাই কেন আমি বিজেপি বা অমিত শাহর ফঁাদে পা দেব? কিন্তু বিজেপি সব ভুলে শাহিনবাগকেই একমাত্র ইস্যু করল। তখন আপনারাও আমাকে এ ব্যাপারে চাপ দিতে লাগলেন মন্তব্য করার জন্য। ফলে আমিও রিঅ্যাক্ট করলাম। তবু বার বার আমি বলেছি, এই ভোট আপনারা দিল্লির জন্য দিন। দিল্লির উন্নয়নের কথা ভেবে। এমনকী বলেছিলাম, আপনি যদি অন্য দলেরও সমর্থক হন, তাতেও আমার কোনও সমস্যা নেই। আপনি লোকসভা ভোটে মোদিকে বা অন্য যে–‌কোনও দলকে ভোট দিন, আমার কোনও বক্তব্য নেই। সেটা আপনার মত। কিন্তু এবার দিল্লির ভোট হোক উন্নয়নের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য।
প্রশ্ন:‌ দিল্লিতে দূষণ কমেছে। এবার আপনাকে সেভাবে কাশতে দেখলাম না!‌ মাফলারও ব্যবহার করলেন না!‌
অরবিন্দ: আমার কাশি সেরে গেছে। দিল্লির মানুষের কাশিও সারিয়ে দিয়েছি শতকরা ২৫ ভাগ দুষণ কমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.