না বলা কথা : জীবন কারোও থেমে থাকে না

Spread the love

অয়ন বাংলা ,প্রতিবেদন :- আপনারা কেউ কেউ হয়ত এই ট্যাক্সিটা দেখেছেন, নাম্বার WB04E4753. ট্যাক্সিটার পেছনে বাংলায় যেন কিসব লেখা।

সে তো বাস ট্যাক্সের পেছনে অনেক কিছুই লেখা থাকে, কখনো মায়ের আশির্বাদ বা কখনো ‘বুরে নজরবালে, তেরা মুহ কালা’। কিন্তু এই লেখাগুলো ইংরাজিতে। ট্যাক্সিটা ধরার জন্য আরেকটু এগিয়ে যাওয়া যাক। লেখাটা দেখে একটু থমকাবেন, লেখা আছে, “The earning by this taxi is used for the students of Sunderban Orphanage School. I urge traffic police not to register any case against this taxi. Regards, taxi driver Gazi Jalaluddin.”

উঠে পড়ুন ট্যাক্সিতে। একমুখ সাদা দাড়িওলা সদাহাস্যময় প্রৌঢ় গাজী জালালুদ্দীন আপনাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। গাড়ি চালাতে চালাতে বলবেন এক আশ্চর্য উড়ানের গল্প। একটা ছেলে ক্লাস টুএর পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিল, কিন্তু পরিস্থিতির চাপে টুএর পর তার পড়াশোনা আর এগোলনা, সে বাধ্য হল জয়নগরের কাছের ঠাকুরচক থেকে এন্টালির ফুটপাথে চলে আসতে। ভিক্ষাবৃত্তিই তখন তার একমাত্র সম্বল। জীবনযুদ্ধ দাঁতে দাঁত চেপে লড়তে লড়তে সে একটা প্রতিজ্ঞা করেছিল, আর কোন বাচ্চাকে যেন তার মত স্কুল ছাড়তে না হয়।

বাচ্চাটা বড় হয়ে শুরু করল রিক্সা চালাতে, ধীরে ধীরে রিক্সা থেকে উত্তরন ঘটল ট্যাক্সিতে। সেই শুরু, যাত্রীদের থেকে অনুদান চেয়ে, নিজের রোজগারের একটা বড় অংশ ব্যয় করে সে সুন্দরবন এলাকার ঠাকুরচকে গড়ে তুলল দু দুটো স্কুল। কারো থেকে সাহায্য না পেয়ে নিজের জন্য বানানো দুকামরার বাড়ির একটা ঘরে বাইশজন ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু হওয়া সেই স্কুল এখন দুটো স্কুলে পরিনত হয়েছে যেখানে প্রায় ষোলজন শিক্ষক শিক্ষিকা আর চারশ ছাত্রছাত্রী। স্কুলেদুটোর নাম? ‘সুন্দরবন শিক্ষায়তন মিশন’ আর ‘ইসমাইল ইসরায়েল ফ্রি প্রাইমারি স্কুল’।
কিন্তু কিছুদিন পরে (ততদিনে যুবক প্রৌঢ় হয়েছেন) তিনি দেখলেন বেশ কিছু বাচ্চা পড়তে চাইলেও তাদের উপায় নেই, কেননা তারা যে তাঁর মতই অনাথ। দমে না গিয়ে লেগে থাকলেন তিনি, ২০১৬ সালে গড়ে উঠল ‘সুন্দরবন অরফ্যানেজ মিশন’। যেখানে অনাথ বাচ্চাদের দেখাশোনা করা হয়।

কিন্তু শুধু লেখাপড়া শিখলে তো হবেনা, কাজ চাই।
তৈরি হল সুন্দরবন ড্রাইভিং সমিতি, যেখানে অঞ্চলের বেকার যুবকদের বিনাপয়সায় গাড়ি চালানো শেখানো হয় এই কড়ারে, যে তারা পরে সমিতিতে অন্যদের গাড়ি চালানো শেখাবে এবং স্কুল ও অনাথাশ্রমের জন্য নিজের রোজগারের একটা অংশ ব্যয় করবে।

বর্তমানে অলিগলিকলিকাতার আনাচে কানাচে প্রায় চারশ যুবক ট্যাক্সি চালান যাঁরা এই সমিতির সদস্য। না গাজী জালালুদ্দিন থেমে থাকবেন না, তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য হল নিজের স্কুলগুলোকে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে পরিণত করা।

আপনারাও যদি এই উড়ানের অংশ হতে চান তাহলে গাজীসাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে +91-9735562504। আপনার সামান্যতম সাহায্য হয়ত সুন্দরবনের বাঘ গাজীসাহেবের স্কুলে আরো একটা বাচ্চার পড়াশোনাকে আরেকটু এগিয়ে দেবে।

কৃতজ্ঞতা : Oligolikolikata-অলিগলিকলিকাতা

(Shah Reza Alam জীর দেয়াল থেকে)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.