সাড়ম্বরে পালিত সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের ১৬ তম প্রতিষ্ঠা দিবস

Spread the love

সাড়ম্বরে পালিত সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের ১৬ তম প্রতিষ্ঠা দিবস

নিজস্ব সংবাদদাতা,অয়ন বাংলা, কোলকাতা: কোলকাতার মৌলালী যুব কেন্দ্রে ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন ১৬ তম প্রতিষ্ঠা দিবস সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে।
সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে উপলক্ষে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের জেলা সম্পাদক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সকলে সম্প্রীতি ও সংহতি: সংকট ও উত্তরণে বিষয়ে এবং যুব ফেডারেশনের দেড় দশকের আন্দোলনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন এবং আগামী দিনে রাজ্যের নিপীড়িত মানুষের জন্য লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও রাজ্য সম্পাদক মহঃ কামরুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন ২০০৪ সাল থেকে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন নিরন্তন ভাবে এ রাজ্যের মুসলিম সমাজের শিক্ষা ও আর্থ সামাজিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে।

২০১০ সালে বামফ্রন্ট সরকার মুসলমানদের অতি অনগ্রসর হিসেবে ঘোষণা করে এবং ওবিসি-এ গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ আদায় করার জন্য যুব ফেডারেশন এর বলিষ্ঠ আন্দোলন ছিল।

চাকরিতে সংরক্ষণের পাশাপাশি পরবর্তীকালে উচ্চশিক্ষাতেও সংরক্ষণ চালু হওয়ার পরে সেই সংরক্ষণ বিধিকে কার্যকরী করার জন্য সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারে দ্বারে কড়া নেড়েছে।

উচ্চ মেধাবী মুসলিম ছাত্র দের ওবিসি কটায় ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার সুযোগ করে দিতে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন স্বাস্থ্য ভবন থেকে বিকাশ ভবন অভিযান করেছে একাধিকবার। সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের প্রচেষ্টাতেই রাজ্যের ৩৪ টি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় সরকার মনমোহন সিং সরকারের আমলে জাতীয় স্তরে ওবিসি তালিকাভুক্ত করে।

রাজ্য এক স্তরের একটি সংগঠন হয়েও এই দাবি আদায়ের জন্য সেদিন দিল্লীর যন্তর মন্তরে ধরনা, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শুরু করে সামাজিক ন্যায় বিচার দপ্তর, জাতীয় ওবিসি কমিশন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন সর্বত্র স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

রাজ্যের যেখানেই মুসলিম সমাজের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, সেখানেই সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বহু বিষয়ে মজলুম মানুষের ইনসাফ পাইয়ে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। সংখ্যালঘু কমিশনের বলিষ্ঠ হস্তক্ষেপে বহু মানুষ সুবিচার পেয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ড. নুরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ সিপিআইএম নেতা মহঃ সেলিম, কংগ্রেস নেতা কামরু চৌধুরী, সিপিআই নেতা স্বপন ব্যানার্জি, জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সভাপতি ডাঃ আলমগীর সরদার, চেতনা লহর পত্রিকার সম্পাদক অনন্ত আচার্য, ইমাম মোয়াজ্জিন কাউন্সিলের রাজ্য সম্পাদক মাওঃ আক্তার হোসেন, সমাজসেবী সুখনন্দন সিং আলুওয়ালিয়া, শাজাহান লস্কর, মুফতি ইমদাদুল্লাহ, সৈয়দ তাহফিমুল ইসলাম। সংগঠনের সহ সম্পাদক ইদ্রিস আলী মন্ডল, সহ সভাপতি মাওঃ আনোয়ার হোসেন কাসেমী, মাওঃ মোক্তার মোল্লা, খলিল মল্লিক।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ সম্পাদক হাফেজ নাজমুল আরেফীন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.