সন্দেশখালির ইয়াস কবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাল সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন

Spread the love

 

সন্দেশখালির ইয়াস কবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাল সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন

নিজস্ব সংবাদদাতা: গত সপ্তাহে ইয়াস ঘুর্ণিঝড়ের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উড়িষ্যা ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। এসময় নদী বাঁধ ভেঙে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, দঃ ২৪ পরগনা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। সব থেকে বেশি প্লাবিত হয় উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জের বিরাট এলাকা। অসংখ্য মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। গত একসপ্তাহ ধরে সরকারি বেসরকারি ভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহঃ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহঃ কামরুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন রাজ্যের অসহায় বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন থাকে। আজকের সন্দেশখালি ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকায় এই ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে কিছু মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত।

সংগঠনের সহ সম্পাদক মহঃ মাহমুদুল হাসান ও নাজমুল আরেফীন বলেন এদিন সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, আলু, তেল, সওয়াবীন, দুধ সহ শুকনো খাবারের প্যাকেট করে ও বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের পোশাক নিয়ে ধামাখালি থেকে নদীপথে প্রায় ২ ঘন্টার পথ অতিক্রম করে প্রত্যন্ত এলাকা শেয়ারা গাজীপাড়ায় পৌঁছায়। সেখানে অবস্থিত অসহায় মানুষের কাজে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের কোষাধক্ষ্য বাবর হোসেন বলেন অনেকেই আসছেন নদীপথে বেশকিছু দূর এসেই ত্রাণ বিতরণ করছেন তবে এই ভিতরের মানুষগুলো আরো বেশি অসহায় আমরা না এলে বুঝতে পারতাম না। দূরে থাকার জন্য মানুষগুলো বঞ্চিত ছিল,একটু বেশি কষ্ট হলেও আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আনন্দিত।

শেয়ারা গাজীপাড়া গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরে বাচ্চাদের নতুন পোষাক ও বেশকিছু দিনের খাদ্রসামগ্রী পৌঁছে দিতে পারায় গ্রামের ইমাম সাহেব থেকে মসজিদ কমিটি সকলেই খুশি জানালেন সংগঠনের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি আইনজীবী আব্দুল হান্নান।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য শিক্ষক আলি আকবর বলেন গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা বার বার বলছেন আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি আপনারা ত্রাণ দিচ্ছেন সবঠিক আছে। আপনারা একটু উদ্ধতন কতৃপক্ষকে জানান বারবার ত্রাণ না দিয়ে, আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকার যাতে কংক্রিটের নদীবাঁধ নির্মাণ করে সে ব্যবস্থা করুন। আমরা আর কতদিন এভাবে প্রতিবছর বিপদে পড়বো।

এদিন ত্রাণ বিতরণে প্রতিনিধি দলে অন্যন্যাদের মধ্যে ছিলেন বসিরহাট জেলা কমিটির সম্পাদক শিক্ষক আহসানুল ইসলাম, বজবজ ব্লক নেতৃত্ব মহিউদ্দিন, ক্যানিং পূর্ব ব্লক নেতৃত্ব জিয়াউর রহমান গাইন, হাড়োয়া ব্লক নেতৃত্ব, শিক্ষক আবু হাসেম, বারাসাত ২ ব্লক নেতৃত্ব শিক্ষক মিরাজ উদ্দিন প্রমুখরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.