উত্তর প্রদেশ ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন :- পাশারুল আলম

Spread the love

উত্তর প্রদেশ ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন
পাশারুল আলম

প্রতিবেদন :-   উত্তরপ্রদেশ সরকারের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ অপেক্ষা ভোট রাজনীতিই মুখ্য। সামনেই নির্বাচন। করোনা হোক কিংবা রোজগার, সুশাসন বা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে যোগী সরকার। তাই শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে গিয়ে এই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল ২০২১ নিয়ে এসে বিধানসভা নির্বাচনে বৈতরণী পার হওয়ার একটা চেষ্টা মাত্র। এই বিল কার্যকরী কতটা হবে সেটা নিয়ে সরকার বা জনগন ভাবিত নয় কিন্তু সরকার পক্ষের লোকেরা যেভাবে এই বিলের প্রচার করছে তা নিয়ে শিক্ষিত জন মানসে বহু প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
সত্যি যদি দেশের জনসংখ্যা সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে এই বিল সমগ্র দেশে নয় কেন ? এই বিলে শুধু মাত্র পঞ্চায়েত আর পৌরসভা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে না অথচ বিধান সভা ও লোক সভায় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে এইটা বা কেমন নিয়ম ? যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তাতে মনে হয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ একমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়। বিলে বলা হচ্ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে রাজ্যে উন্নয়ন হচ্ছে না, রোজগার জুটছে না। এখন প্রশ্ন যোগী সরকার ক্ষমতায় আসার পর কত রোজগার দিতে পেরেছে ? এই মৌলিক প্রশ্ন অনেকেই তুলেছেন।
আসলে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পর উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার পর উত্তরপ্রদেশের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জোর ধাক্কা খেয়েছে যোগী সরকার। সরাসরি ভোটে পরাজিত হওয়ার পর নানা কৌশলে জেলা পরিষদ দখল করেছে তা আমাদের কারো অজানা নয়। একই অবস্থা পঞ্চায়েত স্তরে। যাকে বলা চলে ভোটের নামে প্রহসন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আপাদত পঞ্চায়েত দখল করলেও জনমত কিন্তু একেবারে উল্টো পথে হেঁটেছে। এইখান থেকে বেরোনোর রাস্তা খুঁজতে গিয়ে এই বিল নিয়ে এসে ধর্মীয় সমীকরণ করার একটা শেষ চেষ্টা করছে বলে ধরে নেওয়া যায়। আইন উত্তরপ্রদেশ সরকারের কিন্তু এই আইন নিয়ে জাতীয় স্তরে একটা রাজনীতি করে আগামী ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফায়দা তুলতে গোদি মিডিয়া দিয়ে বেশ প্রচার করানো হচ্ছে। আসল চিত্র জনগনের মধ্যে তুলে ধরলে দোষের ছিলনা কিন্তু যেভাবে উপস্থিত করা হচ্ছে তাতে মনে হয় লক্ষ্য একটি বিশেষ সম্প্রদায়। তাই এ বিষয়ে কিছু কথা বলা আবশ্যক।
ভারত ও চীন পৃথিবীতে জনসংখ্যার নিরিখে এগিয়ে। দুই দেশই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা করেছে। চীন ১৯৭৯ সালে এক সন্তান নীতিতে থাকার ফলে যুব শক্তি হ্রাস পেলে ২০১৬ সালে দুই সন্তান নীতি গ্রহণ করে ২০২১ সাল থেকে চীনে তিন সন্তান নীতি গ্রহণ করেছে। এদিকে আমাদের দেশে সেই ১৯৫১ সাল থেকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সরকারি প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। ১৯৭৫ সালে এ বিষয়ে প্রয়াত সঞ্জয় গান্ধী জোর জবরদস্তি করতে গিয়ে জন মানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ যোগ্য ফল মিলেছে। আজকের দিনে আমরা যেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি এইভাবে চললে আমাদের জনসংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। তানা করে যদি আবার জোর জবরদস্তি করা হয় তাহলে দেশে যুব শক্তি হ্রাস পাবে। প্রশ্ন সেখানে নয়, প্রচার করা হচ্ছে দেশে মুসলিমরা জন সংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ। যেভাবে মুসলিমরা জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে তাতে নাকি ভারতের ক্ষমতা একদিন মুসলিমদের হাতে চলে যাবে। তাই আইন করে তা প্রতিহত করতে হবে। তাদের এই অপপ্রচার বেশ কিছু মানুষ গ্রহণ করছে এবং একইভাবে অন্যের কাছে উপস্থিত করছে।

আমরা সমগ্র ভারতবর্ষের পরিসংখ্যান ও গবেষণা সমূহ লক্ষ্য করলে দেখতে পাই জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি নির্ভর করে আর্থসামাজিক অবস্থা ও শিক্ষার উপরে। এখানে কোনো ধর্মীয় বিষয় জড়িয়ে নেই। তবু ধর্মীয় মেরুকরণ করে ভোটের পূর্বে একটা আইন এনে বাজিমাত করতে চাইছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ কি আদতে আইন দিয়ে ঠেকানো সম্ভব ? নাকি জীবন জীবিকার উপর গুরুত্ব দিয়ে মানুষকে সচেতন করে এই ভাবনার বিস্তার ঘটানো সম্ভব ? উত্তর প্রদেশ সরকার শুধু মাত্র ভোটের জন্য ভুল পথে হাঁটছে। এই হাঁটার ফলে ৮৩ শতাংশ হিন্দু মতের বিশ্বাসী মানুষ যেমন জড়িয়ে যাবে একই ভাবে ১৩ শতাংশ মুসলিম মানুষ এই আইনের আওতায় আসবে। এই বিষয়টি দেখার আগে যে প্রচার চলছে তার উপরে আলোকপাত করা আবশ্যক। সমগ্র ভারতবর্ষে বর্তমানে জন্মহার ২.২ শতাংশ যদি আমাদের দেশ মনে করে জনসংখ্যা যে জায়গায় আছে তাকে ধরে রেখে যুবশক্তিকে রাখতে হবে তাহলে জন্মহার ২.১ শতাংশের রাখতে হবে। তা করার জন্য কোনো আইনের প্রয়োজন নেই। মানুষের যে মানসিকতা তৈরি হয়েছে তা কয়েক বছরে জন্মহার ২ শতাংশের নীচে নেমে যাবে। অভিযোগ মুসলিমদের জন্মহার অধিক তা দেখতে হলে দেশব্যাপী পরিসংখ্যান দেখতে হবে। লাখাদ্বীপে মুসলিম জনসংখ্যার ৯৬ শতাংশ মুসলিম সেখানে জন্মহার ১.৬ শতাংশ আবার কাশ্মীরে মুসলিম জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশ সেখানে জন্মহার ১.৫৭ শতাংশ বিহারে হিন্দু অপেক্ষা মুসলমানদের জন্মহার তুলনামূলক কম। কেৱল রাজ্যে জন্মহার ১.৪৩ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গে জন্মহার ১.৫ শতাংশ। যে উত্তরপ্রদেশ নিয়ে এত হৈচৈ সেখানে হিন্দুদের জন্মহার ২.৪ শতাংশ আর মুসলিমদের ২.৬ শতাংশ। সামান্য হলেও মুসলিমদের জন্মহার একটু বেশি কিন্তু সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা ক্ষেত্রে হিন্দু অপেক্ষা মুসলিমরা এগিয়ে অর্থাৎ পরিবার পরিকল্পনায় যে বৃদ্ধির হার তা হিন্দুদের মধ্যে ৩৫.৫ শতাংশ অন্যদিকে মুসলিমদের মধ্যে বৃদ্ধির হার ৪০ শতাংশ। এতেই বোঝা যায় হিন্দুদের অপেক্ষা মুসলিমরা পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে।
আসামে জন্মহার ২.১৭ শতাংশ। এইভাবে দেখলে জন্মহার সমগ্র দেশে রাজ্য ভিত্তিক তফাৎ লক্ষ্য করা যায়। আসলে যে রাজ্যের মানুষ যত শিক্ষিত সেই রাজ্যে জন্মহার তত কম। মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানে, মেঘলয়ে জন্মহার সবচেয়ে অধিক আবার গোয়া, নাগাল্যান্ড, কাশ্মীর ও লাখাদ্বীপে জন্মহার কম। জাতীয় গড় যেখানে ২.২ সেখান থেকে অনেক নীচে নেমে এসেছে বহু রাজ্য। তাই গবেষণায় বলা হয়েছে ভারতবর্ষের জনসংখ্যা ২০৫১ সালের মধ্যে ১৬৫ কোটি হওয়ার পর তা কমতে থাকবে। এর জন্য কোনো আইন দরকার নেই দরকার মানুষকে শিক্ষিত করে তোলা বিশেষ করে মায়েরা শিক্ষিত হলেই এই সমস্যা থাকবে না।
যে আইন নিয়ে বিজেপি লাফালাফি করছে সেই ধরনের আইন বহু রাজ্যে রয়েছে। যেমন মহারাষ্ট্র, উড়িষ্যা, হরিয়ানা প্রভৃতি রাজ্যে। সেই আইনের ফল কি হয়েছে আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই আইনের ফলে মেয়ে ভ্রূণ হত্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নারী ভ্রূণ হত্যার ফলে নারী পুরুষের সংখ্যার মধ্যে ব্যবধান বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটে দাঁড়ানোর জন্য সন্তান পোষ্য দেওয়া থেকে ডিভোর্স বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে যে সমস্ত রাজ্যে এই ধরনের কোনো আইন নেই সেখানে জন্মহার জাতীয় স্তরের চেয়ে কম বা কাছাকাছি। এতে বোঝা যায় এই আইনের ফলে লাভ অপেক্ষা ক্ষতি হয়েছে বেশি।
মুসলিম সমাজকে দুটি বিষয়ে বেশ জমিয়ে সমালোচনা করা হয়, এক, জন্মহার দুই, বহু বিবাহ। সেই চিত্র দেখলে আমরা দেখতে পাই এই অভিযোগ সত্য নয়। ১৯৭৪ সালের একটি সরকারি রিপোর্টে জানা যায় হিন্দুদের মধ্যে বহু বিবাহের সংখ্যা ৫.৮০ শতাংশ, মুসলিমদের মধ্যে ৫.৭০ শতাংশ, জৈনদের মধ্যে ৭.৭২ শতাংশ আর বৌদ্ধদের মধ্যে ৭.৯২ শতাংশ।
যদিও বহু বিবাহ সন্তান বৃদ্ধির কারন হিসাবে অনেকেই মানতে রাজি নন। তাদের যুক্তি এক পুরুষ একাধিক বিবাহ করলে অধিক সন্তান হয় ঠিক কিন্তু সন্তান জন্ম দেয় নারী পুরুষ নয়। একাধিক নারীকে এক পুরুষ বিয়ে না করলে অন্য কোথাও তার বিবাহ হত এবং সেই স্বামীর ঘরেও সে সন্তান জন্ম দিত। তাছাড়া এযুগে বহু বিবাহ হয়না বললেই চলে। কেননা, সমাজে নারী অপেক্ষা পুরুষের সংখ্যা অধিক। মুসলিম সমাজে যে টুকু জন্মহার বেশি আছে তার কারণ তাদের পশ্চাদপদতা ও অশিক্ষা। এই পশ্চাতপদতা ও আশিক্ষার কারণে এই সমাজ কতটা দায়ী আর রাষ্ট্র কতটা দায়ী তাও বিবেচ্য।
যাইহোক, উত্তরপ্রদেশ সরকার আনীত জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিল ২০২১ নিয়ে একটু আলোচনা হওয়া দরকার। এই বিলে বলা হয়েছে এক কন্যা সন্তান নেওয়ার পর আর সন্তান না নিলে এক লক্ষ টাকা, পুত্র সন্তান হলে আসি হাজার টাকা সহ জমি কেনা, ব্যাঙ্ক ঋণ প্রভৃতি সুযোগ থাকবে। দুই সন্তান হলে বর্তমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে। দুই এর অধিক হলে রাজ্য সরকারের সরকারি চাকুরী, রেশন ব্যবস্থা ও পঞ্চায়েত ও পৌর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
তবে এই আইনের মধ্যে একটা বড় প্রশ্ন যারা চাকুরী চাইতে যাবে তাদের মধ্যে কয়জন বিবাহিত এবং কয়জন তিন সন্তানের পিতা থাকবে। আবেদন কারীর পিতার দুই এর অধিক সন্তান থাকলে শাস্তি পিতার হতে পারে কিন্তু তার সন্তানকে শাস্তি দেওয়া যায়না। একইভাবে এই আইনে বিবাহিত পুরুষদের বিষয়ে আইন আনা হয়েছে কিন্তু লিভ টুগেদারের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এর ফলে সবাই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করে যদি লিভ টুগেদার হয়, তাহলে তাদের উপর এই আইন প্রযোজ্য হবে না। জমি কেনায় কত ছাড় ? যেমন বলা নেই তেমনি ঋণের সুদ কত তাও বলা নেই ? চিকিৎসা ও শিক্ষা ফ্রি বলা হয়েছর কিন্তু তা সরকারি হাসপাতাল, স্কুলে নাকি বে-সরকারি হাসপাতাল, স্কুলে ? কয়জন মানুষ উত্তরপ্রদেশের মত রাজ্যে সমৃদ্ধ পরিবার কতজন সরকারি হাসপাতাল আর স্কুলে যেতে চাইবে ? এই রকম একাধিক প্রশ্নের উত্তর নেই এই আইনে। যারা এই আইন নিয়ে এসেছে তাদের ব্যক্তি জীবন নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তার পিতার সপ্তম সন্তান। একইভাবে রাজ্যের বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে কমকরে ১৫২ জন বিধায়ক তিনের অধিক সন্তানের পিতা কিংবা মাতা। নিজের বেলায় নীরব কিন্তু গ্রামীন মানুষ পঞ্চায়েত সদস্য হতে গেলে দুই সন্তানের অধিক হলে চলবে না কিন্তু আট সন্তানের পিতা হয়েও বিধায়ক মন্ত্রী হতে দোষের নেই। এই আইন বৈষম্যে ভরা। দেশে পনপ্রথার বিরুদ্ধে একাধিক আইন রয়েছে কিন্তু সেই আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে জন প্রতিনিধিরায় পনপ্রথার ধারক ও বাহক। তাদের প্রদত্ত পনের হিসাব শুনলে সাধারণ মানুষ চমকে উঠে কিন্তু কিছু বলতে পারেনা। এখানেও তাই গরিব মানুষ তিন সন্তানের পিতা বা মাতা হলে পঞ্চায়েত বা পুরভোটে দাঁড়াতে পারবে না কিন্তু সমাজের উচ্চ কোটির মানুষ পাঁচ সন্তানের পিতা মাতা হয়েও বিধায়ক, সংসদ হয়ে মন্ত্রী হতে বাধা নেই।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু মাত্র ভোটের রাজনীতির জন্য কোনো একটি সমাজকে দায়ী করে এবং লোভ লালসা দিয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়ে না যায়। চীন থেকে শিক্ষা নিয়ে আরো সর্তকভাবে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা বাঞ্ছনীয়। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী যে ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্ড নিয়ে দেশে বিদেশে বড়াই করছেন, এই আইন তার বিপরীতে হাঁটছে সে কথাও ভাবতে হবে। আর যদি এই আইন করতে হয়, তাহলে জাতীয় স্তরে আলোচনা করে একটি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। শুধু মাত্র পঞ্চায়েত আর পৌর ভোটে কেন ? দেশের যে কোনো ভোটে না দাঁড়ানোর মত আইন নিয়ে আসুক কেন্দ্রীয় সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.