করোনা’য় গণপরিবহন ও অন্যান্য ব্যাবসায় ছাড় মিললেও পার্লার ও সেলুন বন্ধ করার যৌক্তকতা কোথায় : কলকাতা প্রেস ক্লাবে প্রশ্ন মালিক ও কর্মীদের

Spread the love

করোনা’য় গণপরিবহন ও অন্যান্য ব্যাবসায় ছাড় মিললেও পার্লার ও সেলুন বন্ধ করার যৌক্তকতা কোথায় : কলকাতা প্রেস ক্লাবে প্রশ্ন মালিক ও কর্মীদের

পরিমল কর্মকার (কলকাতা) : করোনা আবহে গণপরিবহন থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যাবসায় ছাড় মিললেও আংশিক লকডাউনের সময়ে পার্লার ও সেলুন শিল্প পুরোপুরি বন্ধ থাকার কারণে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন এই ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত মালিক ও কর্মচারীরা। বুধবার (১২ জানুয়ারি) কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে “ওনার ফর এভার” নামের একটি সেলুন ও পার্লার কর্মী সংগঠনের সদস্যারা নিজেদের জীবিকাকে বাঁচানোর প্রচেষ্টায় এই সম্মেলনের আয়োজন করেন। এদিন তারা নানা যুক্তির মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দেন যে, পার্লার ও সেলুন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাটা কতটা জরুরি ! শুধু তাই নয়, পার্লার ও সেলুন মানুষের জীবন ধারনের সঙ্গে কতটা অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত — সে কথাও তারা এদিন তারা তুলে ধরেন।

এদিন সম্মেলনে সংগঠনের সদস্যারা জানান, বিগত দু’বছর ধরে করোনা আবহে যখনই লকডাউন হয়েছে তখনই এই শিল্পের উপর আঘাত এসেছে। যার ফলে বর্তমানে এই শিল্প প্রভূত ক্ষতির সম্মুখীন। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বহু মালিকই তাদের পার্লার ও সেলুন ব্যাবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ কর্মীই মহিলা। এরা বেশিরভাগই অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের বলে জানান তারা।

গণপরিবহন থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যাবসায় সরকার যখন ছাড় দিচ্ছে, তখন এই ব্যাবসার উপর এত কড়াকড়ির অর্থ কি — এই প্রশ্নও তুলেছেন তারা। তাদের বক্তব্য, সরকারি সমস্ত বিধি-নিষেধ ও সতর্কতা মেনে চলা সত্ত্বেও তাদের উপর এই আঘাত আনার ব্যাখ্যা তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। যুক্তি দিয়ে তারা বলেন, যদি সংক্রমণ ছড়ায়ই তাহলে বাজার-হাট, কোর্ট-কাছারি, অফিস, খাবার দোকান, মুদিখানা, চায়ের দোকান, পানশালা, বাস, মেট্রো, ট্যাক্সি, অটো ইত্যাদি থেকেও তো সংক্রমণ ছড়াতে পারে। অথচ প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন রূপচর্চা থেকে শুরু করে চুল কাটা, দাড়ি কাটার মতো গুরুত্বপূর্ন ও জরুরি পরিষেবা কি কারণে পুর্ন সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় — এ নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তারা। পাশাপাশি সাম্প্রতিক আংশিক লকডাউন পর্বে পার্লার ও সেলুনের ক্ষেত্রে খোলা-বন্ধে ছাড় দেওয়ার জন্য সরকারের এই ভূমিকাকে ধন্যবাদও দেন সংগঠনের উপস্থিত সদস্যারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.