দলিত দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের যোদ্ধা তৃণমূলের প্রার্থী, মনোরঞ্জন ব্যাপারী: কলম ধরলেন নিজেই

Spread the love

হুগলির বালাগড়ে তৃণমূলের প্রার্থী দলিত দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের যোদ্ধা মনোরঞ্জন ব্যাপারী: কলম ধরলেন নিজেই

প্রতিবেদন :- গতকাল মাননীয়া মা মাটি মানুষের নেত্রী- দিদি মমতা ব্যানার্জী বলাগড় বিধানসভার নির্বাচন ক্ষেত্রে আমাকে প্রার্থী ঘোষনা করার পর বঙ্গ জনমানসে তুমুল প্রতিক্রিয়া। একদল যেমন আমাকে তীব্র ভাষায় আক্রমন করছে আবার আর একদল দুহাত তুলে অভিন্দন জানাচ্ছে।

আমার নিজের তরফে যা বলার সেটা হচ্ছে -আমি এক লেখোয়াড় । দলিত দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের পক্ষের এক যোদ্ধা। এতদিন আমি সেই মানুষদের পক্ষ নিয়ে গলা ফাটিয়েছি, ঘাড় গুজে দিস্তার পর দিস্তা কাগজে লিখে গেছি। কিন্ত এসব করে তাদের জীবনে কোন পরিবর্তন আনতে পারিনি । আজও আমার মানুষ- আমার আপনজন হাজার সমস্যায় জর্জরিত । খাদ্য বস্ত্র শিক্ষা বাসস্থান চিকিৎসা কর্মসংস্থান কিছুই তেমনভাবে তাদের নাগালে আসেনি।

আমি এটা বুঝেছি যে শুধু তাদের দুঃখ বেদনা বঞ্চনার কথা লিখে কোন কাজ হবে না । কাজ হতে পারে রাজক্ষমতার অংশ হতে পারলে ।–বিধান সভার অন্দরে গিয়ে তাদের জন্য গর্জন তুলে কিছু আদায় করে আনতে পারলে। আগে দলিত সমাজের অনেকে বিধানসভায় লোকসভায় নির্বাচিত হয়ে গেছে । কিন্ত তারা কেউঁ সত্যিকারের শ্রমিক কৃষক দলিত দরিদ্র সমাজের সন্তান ছিলনা । -প্রতিনিধি ছিলোনা । তাই সেই বঞ্চিত নিপীড়িত –না খাওয়া মানুষের জন্য কিছু করার কথা মনে থাকেনি । তাদের কষ্টের কথা মাথায় রাখেনি ।

এই প্রথমবার বাংলা থেকে একজন সত্যিকারের নিপীড়িত শ্রেনীর প্রতিনিধি বিধানসভায় যাচ্ছে । যার বাবা দেশ ভাগের বলি এক উদ্বাস্ত। মুটে মজুর। যার মা বাসন মাজতেন বাবু ভদ্রলোকের বাসায়। যার জীবন শুরু হয়েছিল গরু ছাগল চড়ানো দিয়ে । তারপর মুটে মজুর রিকশাওয়ালা রাঁধুনি, ডোম সুইপার ট্রাকের খালাসি নাইট গার্ড । যাকে একদিন ক্ষুধার তাড়নায় কুকুরের মুখ থেকে রুটি কেড়ে খেয়ে প্রান বাঁচাতে হয়েছিল। না খাওয়ার যে কী যন্ত্রনা সে তাঁর জীবন থেকে জানে-।

দিদি মমতা ব্যনার্জীকে এই জন্য অজস্র ধন্যবাদ যে তিনি প্রকৃত দলিত দরিদ্রের মধ্যে থেকে একজন প্রতিনিধি সেই সমাজের পক্ষ নিয়ে বিধান সভায় গর্জে ওঠার জন্য নির্বাচনের অংশ নেবার সুযোগ করে দিয়েছেন । যে সাহস যারা নিজেদের শ্রমিক কৃষকের দল বলে তারা সত্তর বছরেও দেখাতে পারেনি। এখানেই আপনি অনন্যা অসাধারন- তুলনাহীন । আর কেউ যা পারবে না এমনটা একমাত্র আপনিই পারেন। সমাজের নিচুতলার মানুষের জন্য আপনার মনোভাব আর একবার পরিস্কার ভাবে প্রমানিত হলো। আপনি যে তাদের কতখানি দরদী আপনি যে তাদের সত্যিকারের উন্নয়ন চান গোটা বিশ্ব সেটা আজ দেখছে।

আমি অবশ্যই তৃনমূল দলের একজন সদস্য হতে চলেছি । সেই সঙ্গে আমি প্রতিনিধি শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের । আমি প্রতিনিধি সেই দেশভাগের বলি অসংখ্য রিফিউজি উদ্বাস্ত শরনার্থী মানুষেরও । যাদের মাথার উপর এখন ঝুলছে বেনাগরিক হবার খাঁড়া । আমি প্রতিনিধি তাদের– যারা বাংলার ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি- নারীজাতির সম্মান রক্ষার জন্য লড়ছে । আমি তাদের মানুষ তারা আমার মানুষ । আমি তাদের জন্যই লড়াই করেছি । বিধানসভার ভিতরে বাহিরে- তাদের জন্যই লড়াই করতে থাকবো । কোন আপোষ করা হবে না।

আমাদের দলিত –নমো সমাজের মানুষের সংখ্যা বিশাল । কিন্ত তাদের কোন সর্বমান্য সাহসী যোগ্য নেতা নেই । যে এই গোটা জাতিটাকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে সংঘবদ্ধ করে রাজশক্তির কাছ থেকে চাপ দিয়ে নিজেদের ন্যায্য পাওয়া আদায় করে নেবে ।

আমি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুব সমাজের মধ্য থেকে- সেই নেতা নির্মানের কাজ শুরু করতে চাইছি । আগামী দিনে গুরুচাঁদ ঠাকুরের একজন যথার্থ উত্তরসুরী এগিয়ে এসে যেন উঠে দাঁড়াতে পারে তেমন একটা বেদী নির্মান করতে চাইছি। তাই আমি কলমকে বিরাম দিয়ে এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি । চারদিকে যে তুমুল আলোড়ন টের পাচ্ছি- দলমত নির্বিশেষে যে ভাবে মানুষ আমাকে সমর্থ্ন দিচ্ছেন- পুজিবাদী, মনুবাদী, পুরুষতন্ত্র, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাস্ত করে বিপুল ভোটে জিতবো । বাংলার মেহনতী মানুষের বিজয় কেতন- গামছা , পত পত করে আকাশে উড়বে ।

এটা ওরাও বুঝতে পেরে গেছে । তাই সেই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি রাগে ক্রোধে দিশেহারা হয়ে যার যা মুখে আসে বলে দিচ্ছে। বন্ধু সেজে কেউ পরামর্শ দিচ্ছে –আমার লেখা নিয়েই থাকা উচিত। কিন্ত আমি থামতে পারবো না । সময় সুযোগ বার বার আসে না । আজ যখন সমস্ত গামছা গলার মানুষের আওয়াজ সারা বিশ্বের কোনে কোনে পৌছে দেবার সুযোগ এসেছে আমি সেটা করেই দম নেবো।
গোটা দেশের যে যেখানে আছেন যারা আমাকে ভালোবাসেন , আমি তাদের ডাক দিচ্ছি, সবাই আমার পাশে এসে দাঁড়ান। সবাই ভালো থাকবেন । দেখা হবে । এক দুদিনের মধ্যেই আমি আসছি আমার প্রিয়ভুমি প্রিয় মানুষদের কাছে বলাগড় বিধানসভা ক্ষেত্রে ।

আপনাদের ভাই মনোরঞ্জন ব্যাপারী । ফোন নাম্বার- ৯৮৩১৯৩৯৩৩৯

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.