মুর্শিদাবাদের চুনাখালির দরগা পাড়ার পীর মোসলেম শাহ্ মাজার ও মসজিদের ইতিবৃত্ত।

Spread the love

মুর্শিদাবাদের চুনাখালির দরগা পাড়ার পীর মোসলেম শাহ্ মাজার ও মসজিদের ইতিবৃত্ত।

নিউজ ডেস্ক:-    ঐতিহাসিক পটভূমি ,চুনাখালি দরগাপাড়ায় রয়েছে পীর মোসলেন শাহ এর সমাধি। তার ইন্তেকালে পর গৌড়ের সুলতান সৈফুদ্দিন আবুল মোজাফ্ফর ফিরোজ শাহ ৮৯৬ হিজরী ইং ১৪৯০ খ্রীষ্টাব্দে তাঁর নির্মান করেন এবং সমাধির উত্তর পূর্বকোণে নির্মান করেন একটি মসজিদ। সমাধির পশ্চিম দিকে রয়েছে আরও একটি মসজিদ, নির্মিত হয়েছিল ১১৮৮ হিজরী ইং ১৭৪২ খ্রীঃ।

 

সমাধির দক্ষিণে রয়েছে একটি বাউলী । যার নির্মান কাল ১২৩৯ হিজরী।

সমাধির উত্তর দিকে বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছিল একটি বানিজ্য নগরী। নবাবী আমলের শেষদিকে এই বাণিজ্য নগরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মহম্মদ রেজা খানের পুত্র বাহরাম জং। তার নাম অনুসারেই বানিজ্য কেন্দ্রটির নাম হয়েছিল “বহরমগঞ্জ”। আজও মৌজার নাম ‘বহরমগঞ্জ” রয়ে গেছে । বাণিজ্য নগরীটির এতটাই প্রসিদ্ধি ঘটেছিল যে লর্ড ক্লাইভ মন্তব্য করেছিলেন এই বাণিজ্য কেন্দ্রটি লন্ডনের থেকেও শ্রেষ্ঠ।
এই বানিজ্য কেন্দ্রকে বেস্টন করে গড়ে উঠেছিল একটি নগর সভ্যতা।

পির মোসলেম শাহ্ এর সমাধিকে কেন্দ্র করে এভাবে শতাধিক বছর ধরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল এ এলাকার চূড়ান্ত উত্থান ।

ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের দূর্ভিক্ষে (বাংলা – ১১৭৬ সন, ইং – ১৭৭০) ও তৎপরবর্তী সময়ে প্রবল বন্যা ও ভূমিকম্পে সমগ্র এলাকার পুরাতন স্থাপত্য বিধ্বস্ত হয়ে মাটির সাথে মিশে যায়।
সেই সময় কালের স্থাপত্য হিসেবে ভগ্ন অবস্থায় টিকে রয়েছে সমাধির উত্তর পূর্বের মসজিদটি ,প্রাকৃতিক ধ্বংশ যজ্ঞের পর সমগ্র এলাকাটি শতাধিক বছর জনবিরল এলাকায় পরিনত হয়ে জঙ্গলে ছেয়ে যায় । আবাসস্থল হয়ে ওঠে বুনো জীবজন্তুর।

শতাধিক বছর চুনাখালির এই এলাকাটি প্রাকৃতিক বিপর্যের পর জনবিরল অবস্থায় পরিত্যাক্ত থাকার পর , মিঠুন ফকির নামে একটি লোক বাল্য অবস্থায় এই সমাধি ও মসজিদে আশ্রয় নেয় । বন জঙ্গল পরিষ্কার করে থাকতে শুরু করে; একথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ায় লোকজনের আসা যাওয়া শুরু হয়। কয়েক বছরের মধ্যে স্থানটির পরিচয় দুর দুরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। কথিত আছে মিঠুন ফকিরের কিছু অলৌকিক কেরামতিতে মানুষের অসুখ বিসুখ ও মনোস্কামনা পূরণ হতো। সমাধির উত্তর পূর্বে একটি কুটির তৈরি করে তিনি সেখানেই থাকতেন। বাল্যবস্থা থেকে প্রৌঢ়ত্ব পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করেছেন।

ইতিমধ্যে তিনি হজ করে এসেছেন। একদিন নামাজরত অবস্থায় তার কুঁড়ে ঘরেই তিনি খুন হয়ে যান। আততায়ী কুড়াল বা টাঙ্গি জাতীয় অস্ত্র দ্বারা তাকে কুপিয়ে খুন করেছিল। সম্ভবত ১৯৫৫ সালের শেষ দিকে বা ১৯৫৬ সালের প্রথমদিকে তিনি খুন হয়েছিলেন, তার সমাধি রয়েছে বাউলীর দক্ষিণ পাশে।

সূত্রঃ- ১) স্থাপত্য গুলির নির্মানকাল : মাযার, মসজিদ ও বাউলীর দেওয়াল গাত্রে প্রোথিত আরবী ও পার্শি ভাষায় খোদিত শিলালিপি

2) ঐতিহাসিক বিবরণ :-
ক) “মুর্শিদাবাদ থেকে বলছি ” তৃতীয় খন্ড ( কমল বন্ধ্যোপাধ্যায়)

খ)মুর্শিদাবাদ গেজেটিয়ার – পৃঃ ,৫২,৫৩,৬8৬, ও ৬8৭
সংকলক – মুর্শিদাবাদ জেলাশাসক ( মাননীয় মবোজ পন্থ 2003)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.