কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে কলকাতায় প্রকাশ্যে চলছে কিডনির রমরমা ব্যবসা …… পাচারকারীদের নাম-ঠিকানা পেলেও ধরা পড়ে নি চক্রের পান্ডারা, অভিযোগ বাঁশদ্রণীর প্রতারিত যুবকের

Spread the love

কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে কলকাতায় প্রকাশ্যে চলছে কিডনির রমরমা ব্যবসা …… পাচারকারীদের নাম-ঠিকানা পেলেও ধরা পড়ে নি চক্রের পান্ডারা, অভিযোগ বাঁশদ্রণীর প্রতারিত যুবকের

দ্বিতীয় পর্ব………

পরিমল কর্মকার (কলকাতা) : ২১ বছর আগে আনন্দবাজার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে কিডনি পাচার-চক্রের পাল্লায় পড়ে কিডনি খুইয়েছিল বাঁশদ্রণীর থানা এলাকার বাসিন্দা অরূপ কুমার দে নামে এক যুবক। অভাবের তাড়নায় সে তার কিডনি বিক্রি করেও টাকা পাননি বলে অভিযোগ। বাঁশদ্রণীর এ-৩১, চিরন্তনী পার্কের (কলকাতা ৭০০০৭০) বাসিন্দা অরূপের এখন বয়স ৪২ বছর। যে চক্রটি তার কিডনি নিয়েছিল ২১ বছর পর সেই চক্রের এক পান্ডার হদিশ মেলে গত ১০ আগস্ট। প্রতারিত যুবক নিজের উদ্যোগেই ওই পাচারকারী দলের এক পান্ডাকে ধরে ফেলে সে। তারপর আনন্দপুর থানায় খবর দিলেও থানা থেকে ওই পাচারকারীকে গ্রেফতার করার কোনও তৎপরতা দেখায়নি পুলিশ, এমনই অভিযোগ। যারফলে কিডনি পাচারকারী দলের পান্ডা রনবীর রজক গ্রেফতারি এড়িয়ে প্রকাশ্যে এই অসমাজিক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ প্রতারিত যুবক অরূপ কুমার দের। ওই পান্ডার বাড়ি ভবানীপুর থানা এলাকায় ৩৯-এ, গোবিন্দ বোস লেনে (যদুবাবুর বাজারের কাছে)। ঠিকানাটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতার যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম), রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর সহ একাধিক জায়গায় লিখিতভাবে অভিযোগ করা সত্ত্বেও আজ এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ… এমনটাই আক্ষেপ প্রতারিত অরূপের।

ঘটনায় জানা গিয়েছে, গত ২০০০ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত “কিডনি চাই” এমনই একটি বিজ্ঞাপন দেখে অরূপ নামের ওই যুবক তার বাড়িতে না জানিয়েই বিজ্ঞাপনে উল্লেখিত ফোনে (৯৮৩১৩৬৪৯৮৪) যোগাযোগ করে। তারপর নানারকম রক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কিডনি ম্যাচিং প্রক্রিয়া শেষ হলে ওই পাচার চক্রের মূল পান্ডা নীতিশ চাউদা নামের এক ব্যক্তি তাকে জানায় কিডনি দিলে ৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে, এবং ওই টাকাটা অপারেশনের পরই দেওয়া হবে। তারপর দক্ষিণ কলকাতার একটি নামী নার্সিং হোমে অপারেশন করে তার কিডনি কেটে নিয়ে একজন কিডনি রোগীকে ট্রান্সফার করা হয়। অপারেশনের পর সরল বিশ্বাসে দিন দশেক নার্সিং হোমে কাটিয়ে বাড়ি ফেরে অরূপ। ওরা তখন সোনারপুর থানা এলাকায় সুভাষ গ্রামে থাকতো। বাড়ি ফেরার পর বারং বার নীতিশ চাউদার ওই ফোন নম্বরে (৯৮৩১৩৬৪৯৮৪) ফোন করলেও জানা যায় ওই নম্বরটির সুইচ অফ।

এই ঘটনার পর সে বহু জায়গায় নীতিশ চাউদার খোঁজ করতে থাকে। এমনকি থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানায় প্রতারিত অরূপ। হঠাৎ কিছুদিন আগে অর্থাৎ গত ৮ আগস্ট আনন্দবাজার পত্রিকায় আবেদন কলমে “কিডনি চাই” বিজ্ঞাপনে চোখ পড়ে যায় অরূপের। সে দেখে সেই একই নম্বরে (৯৮৩১৩৬৪৯৮৪) কিডনি চেয়ে আবার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। সে তখন কিডনি-দাতা সেজে ওই নম্বরে ফোন করে। তখন তাকে বলা হয়, রুবি হসপিটালে যেতে। গত ১০ আগস্ট অরূপ তার ২ বন্ধুকে নিয়ে সেখানে যায়। সেখানে হসপিটালের গেটে সে দেখে রনবীর রজক নামের এক ব্যক্তি তার জন্য অপেক্ষা করছে। রণবীর জানায়, সে নীতিশ চাউদার অধীনে কাজ করে। ২১ বছর আগের সেই নীতিশই যে এই কিডনি পাচারচক্র চালিয়ে যাচ্ছে সেটা তখন অরূপের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। সে তখন রণবীরকে ধরে রেখে নিকটস্থ আনন্দপুর থানায় ২/৩ বার ফোন করে। কিন্তু দীর্ঘক্ষন কেটে গেলেও পুলিশ না আসায় অভিযুক্তকে লক-আপে পোরা যায়নি বলে অভিযোগ অরূপের।

তারপর অরূপরা ওই পাচারকারী চক্রের পান্ডা রণবীরের ভবানীপুরের বাড়িতে যায়। ওখানে গিয়ে ওই এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় এই ঘটনা জানায়। তবে সুরাহা কিছুই হয়নি বলে জানায় অরূপ। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, লালবাজারে কলকাতার যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম), সল্টলেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর সহ একাধিক দপ্তরে পাচারকারীর নাম-ঠিকানা দিয়ে সে লিখিত অভিযোগ করে। কিন্তু আজ এক মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ কেন পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে না….. এনিয়ে বিস্মিত অরূপ। শেষে বাধ্য হয়ে আমাদের সংবাদ দপ্তরে শনিবার (১৮ আগস্ট) অরূপ কুমার দে নামের ওই যুবক যোগাযোগ করে। এখন দেখার বিষয়…. ওই কিডনি পাচারকারীরা গ্রেফতার হয় কিনা……!

পরবর্তী পর্বে… এই খবরে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.