মায়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালনে,আমন্ত্রিত অতিথিদের হতে তুলে দিলেন গাছের চারা

Spread the love

নিজস্ব সংবাদদাতা,   বহরমপুর :- পৃথিবীতে পবিত্রতম সম্পর্ক হল মা ও সন্তানের বন্ধন। সেই মা যখন জাগতিক বন্ধন ছিন্ন করে অমৃত লোকে পাড়ি দেন তখন সন্তান তাঁর স্মৃতি তর্পণ করেন বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে । এ পর্যন্ত শুনে মনে হতেই পারে এখানে অভিনবত্ব কি আছে? কিন্তু এই নিয়মে যদি কেউ পরিবর্তন আনেন তখন তা অন্য রকম হয় বৈকি! এই অন্য রকম ঘটনার কথাই আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা থানার নওদার বাসিন্দা তপন কুমার মন্ডল গত বছর হারিয়েছেন মা অলোকা মন্ডলকে। রবিবার ছিল তপন বাবুর মায়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। পারলৌকিক রীতি মেনে এই দিনে স্মরণ করলেন তাঁর মাকে। তবে আর পাঁচজনের মতো করে নয়। প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে তিনি আমন্ত্রিত অতিথিদের হতে তুলে দিলেন গাছের চারা। আদ্যন্ত পরিবেশ প্রেমী পেশায় শিক্ষক তপন মন্ডল মায়ের স্মরণে বিতরণ করলেন পেয়ারা, লেবু, গোলাপের চারা। আর তাঁকে এই কাজে সহায়তা করলেন আর এক পরিবেশ প্রেমী অর্ধেন্দু বিশ্বাস। জেলার নওদা নিবাসী শিক্ষক তপন কুমার মন্ডল, আগাগোড়াই পরিবেশ প্রেমী। তিনি জানান, পৃথিবী আজ গভীর রোগে রোগাক্রান্ত। সেই অসুখের নাম বিশ্ব উষ্ণায়ন। ছিঁড়ে গেছে বায়ুমণ্ডলের উপরে থাকা ওজনস্তর। সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি প্রবেশ করছে পৃথিবীতে। বিপদ বাড়াচ্ছে জীব মন্ডলের আর এই রোগের একমাত্র ওষুধ গাছ লাগানো। পৃথিবী না বাঁচলে আমরা বাঁচবো না। তাই যত বেশী সম্ভব গাছ লাগাতে হবে। বাঁচাতে হবে পরিবেশের ভারসাম্য। তাই পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়ে শিক্ষক তপন বাবু অতিথির হাতে তুলে দিলেন গোলাপ,পেয়ারা, লেবু সহ প্রায় তিনশো চারাগাছ। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়ে এই ধরনের উদ্যোগ, মানুষকে আরো বেশি পরিবেশ সচেতন করবে এই আশা প্রকাশ করেছেন পরিবারের সকল সদস্যরা। তাদের আশা গাছের মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকবেন তাদের প্রিয়জন। পাশাপাশি শিক্ষকের এই মহৎ উদ্যোগ কে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা ও আমন্ত্রিত অতিথিরাও। গাছের চারা হাতে পেয়ে আমন্ত্রিত ব্যক্তি যেমন খুশি প্রকাশ করেছেন ঠিক তেমনই এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন পরিবারকেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.