বিএসএফ এর এক্তিয়ার, সংবিধান,ও নাগরিক অধিকার শিরোনামে সেমিনার কলকাতায় একাডেমি অফ ফাইন আর্টস হলে

Spread the love

 

বিএসএফ এর এক্তিয়ার, সংবিধান,ও নাগরিক অধিকার শিরোনামে সেমিনার কলকাতায় একাডেমি অফ ফাইন আর্টস হলে

নিজস্ব সংবাদদাতা ,কলকাতা:-   বিএসএফ এর এক্তিয়ার, সংবিধান,ও নাগরিক অধিকার শিরোনামে, কলকাতায় একাডেমি অফ ফাইন আর্টস হলে, ২৬.১২.২০২১ . এস ডি পি আই রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীদের ও মানবঅধিকার কর্মীদের নিয়ে একটি টেবিল টক আলোচনা হয়। উপস্হিত ছিলেন SDPI এর রাজ্য সভাপতি তায়েদুল ইসলাম, পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহম্মেদ হাসান ইমরান, প্রাক্তন বিচারপতি ইন্তাজ আলী শাহ, সিকিম হাইকোটের প্রধান বিচারপতি মলয় সেনগুপ্ত( অবসর প্রাপ্ত), বন্দিমুক্তি কিমিটির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস, আরো অনেকে উপস্হিত ছিলেন।

 

 

১১ অক্টোবর  ২০২১ ইউনিয়ন সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলে বিএসএফ পাঞ্জাব অসম পশ্চিমবাংলায় আন্তর্জাতিক সীমানা থেকে দেশের ভিতরে ৫০ কিমি পর্যন্ত তল্লাশি বাজেয়াপ্ত ও গ্ৰেফতার করতে পারে । এই বিজ্ঞপ্তি জারির পর নতুন করে আলোচনার বস্তু হয়ে ওঠে সীমান্তবাসীদের উপর বিএসএফের নানারকম অত্যাচার জুলুম ধর্ষণ-খুন পাচারের কাহিনী । বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি আওয়াজ তোলে এর মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন সরকার দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় হস্তক্ষেপ করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিবাদ করে বলছে বিএসএফ পনেরো কিলোমিটারের মধ্যে কাজ করার সময় যে সমস্ত বেআইনি কাজকর্ম করত বিএসএফের কাজের এলাকা ৫০ কিমি করার ফলে বিএসএফের বেআইনি কাজের সংখ্যা বাড়বে। মানবাধিকার হরনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে । আমাদের রাজ্য পশ্চিমবাংলার ৩৭ শতাংশের বেশি এলাকা বিএসএফের অধিনে চলে আসছে। ফলে পনেরো কিলোমিটারের বাইরের সমস্ত রকম মানুষ বিএসএফের নানারকম নির্যাতনের ভয়ে উদ্বিগ্নের জীবন কাটাচ্ছেন । বিষয়টিকে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায় । নতুনভাবে  ৫০কিমি পর্যন্ত কাজের এলাকা বৃদ্ধির ঘোষণা প্রত্যাহার করতে হবে। নতুন বিজ্ঞপ্তি ঘোষণার আগে পর্যন্ত সীমান্ত থেকে দেশের ভিতরে ১৫ কিমি পর্যন্ত বিএসএফের কাজের এলাকা ছিল সেটাও প্রত্যাহার করার দাবি তুলতে হবে। আইনজীবীদের বক্তব্য বিএসএফের কাজের এলাকা  ১৫ কিমি করার সিদ্ধান্ত আইন মেনে হয়নি । বিএসএফকে  ১৫ কিমি পর্যন্ত কাজের ক্ষমতা দেওয়া আন্তর্জাতিক সীমানা সুরক্ষা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আইন , ভারতীয় সংবিধান , বিএসএফ আইনের লংঘন । বিএসএফকে তৈরি করা হয়েছে সীমান্ত পাহারা দেওয়ার জন্য । সীমান্ত পাহারা দিতে হলে বিএসএফকে সীমান্তে থাকতে হবে । এখন সীমান্তে বিএসএফ থাকেনা । বিএসএফ যেখানে থাকে সেখানটা সীমান্ত নয় । সীমান্তে জমির ফসল বাংলাদেশী চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়।এদের হাত থেকে দেশের নাগরিকদের রক্ষা করতে হলে বিএসএফকে সীমান্তে মোতায়েন করতে হবে ।বিএসএফ এর আউটপোষ্ট দশ কিলোমিটার পর্যন্ত ভিতরে আছে। সীমান্ত জেলাগুলির জেলা শাসকরা সারাবছর সীমান্ত এলাকায় ১88ধারা জারী রাখেন । আইনজীবীরা বলছেন দীর্ঘ সময় ধরে  ১88ধারা জারি করে রাখা সংবিধানবিরোধী। সংবিধানের ১৯ এবং ২১ অনুচ্ছেদের বিরোধী । অনুরাধা ভাসিন মামলা 2020 তে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে বলেছে কোন এলাকায় সারা বছর ধরে ১88ধারা  জারি রাখা দেশের সংবিধান বিরোধী । রাজ্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি তোলা দরকার সারা বছর ধরে১88ধারা জারি বন্ধ করতে হবে। প্রাত্যহিক জীবনে নানা ভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করা , খুন-জখম, নানা রকম চোরাচালানে মদদ বিএসএফের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কাঁটাতারের ওপারের অসংখ্য মানুষের জীবন যাপন বিএসএফের উপর নির্ভরশীল । আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ 2001 থেকে 2010 সাল পর্যন্ত সমীক্ষা চালিয়ে বলেছে বিএসএফ প্রতিবছর গড়ে 100 মানুষ খুন করেছে এবং 2010 থেকে 2021 পর্যন্ত গড়ে 150 নাগরিককে খুন করেছে। এই নভেম্বরের 11 তারিখ কুচবিহারে 4 জনকে হত্যা করেছে । 22 ডিসেম্বর 2 জনকে হত্যা করেছে । আমাদের দেশের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে 4241 কিলোমিটার । পশ্চিমবাংলার সীমান্ত 2217 কিলোমিটার । 50 কিলোমিটার এলাকা বৃদ্ধি করার ফলে রাজ্যের নটি জেলা বিএসএফ এর অধীনে চলে আসছে । 1965 সালে 1 ডিসেম্বর পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিএসএফকে তৈরি করা হয়। 1968 সালে বিএসএফ এর কাজের বিধি তৈরি করা হয় । 71 সালে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ তৈরি হয় । বাংলাদেশ এখন আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র । ভারতের সাথে নেপাল ও ভুটানের সীমান্ত আছে। সেখানে যাতায়াতের জন্য যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে , বাংলাদেশের সাথে তা নেই কেন? অসম , ত্রিপুরা এবং মিজোরামে সীমান্ত হাট আছে যা ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী যৌথভাবে পরিচালনা করে। পশ্চিমবাংলার সীমান্তেও সে ধরনের হাট চালু করা প্রয়োজন। সীমান্ত মুক্ত বানিজ্য চালু করা হলে দেশের আয় বৃদ্ধি পাবে । পাচার বন্ধ হবে। ইউনিয়ন সরকারের বিএসএফের কাজের এলাকা 50 কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয় । বর্তমান ইউনিয়ন সরকারের সমস্ত পদক্ষেপ হিন্দুত্ববাদী বা সামরিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এক একটি পদক্ষেপ। বিএসএফের কাজের এলাকা বৃদ্ধিও সেই লক্ষ্যে একটি পদক্ষেপ । সামনে এনআরসি এনপিআর হতে চলেছে। সে কাজে বিএসএফকে ব্যবহার করা হবে । সে ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ভূমিকাও আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রের মতই রাজ্য সরকারের ভূমিকা স্পষ্ট নয় । সুতি ১ ব্লকের বিডিও , বি এল আর ও এবং বিএসএফ আধিকারিকদের নিয়ে যৌথ মিটিং হয় ব্লক অফিসে । সেখানে সীমান্তে জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয় । পূবের কলম দৈনিক পত্রিকার 30 নভেম্বর সংখ্যায় এ নিয়ে বিস্তারিত খবর আছে। বিএসএফ বিধি অনুযায়ী লুটতরাজ করার মনোভাব নিয়ে কোন জায়গায় গেলে 14 বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে (ধারা 14 /খ )। মদ্যপ অবস্থায় দেখা গেলে ছমাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে (ধারা 26) । ভুল তথ্য বা ভুল নথিপত্রের জন্য 10 বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে (ধারা 38)। বিএসএফের মিথ্যা অভিযোগে শত শত মানুষ জেলের ঘানি টানছেন। থানাগুলো এনডিপিএস এর মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের সাহায্য করছে । স্বরাষ্ট্র দপ্তর আদেশনামা নম্বর 140 51/ 1420 11, এফ ভি আই তারিখ 1 মে 2012 তে বলা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে 18 বছরের নিচে কোন মহিলা বা শিশু কোন ব্যক্তির প্রলোভনে এদেশে এসে পড়লে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা হবে না। তাদের কোনো হোমে রেখে তাড়াতাড়ি বাংলাদেশ পাঠাতে হবে । অথচ তাদের ফরেনার্স এক্টের14 নম্বর ধারায় অভিযুক্ত করে মহিলা ও শিশুদের জেলে পাঠানো হচ্ছে।
বিএসএফ আইন মেনে কাজ করছে তা ইউনিয়ন সরকার ও রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। বিএসএফ এর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তদন্ত পুলিশ প্রশাসনকে করতে হবে এবং দেশের আইন অনুযায়ী প্রকাশ্য আদালতে বিচার করে শান্তি দিতে হবে। বিএসএফের আদালতে নয়।
সীমান্ত এলাকায় যথাযথ উন্নয়ন করতে হবে। বিএডিপি প্রকল্পের টাকা সীমান্তে ব্যয় করা হয় না। যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.