বর্ষাকালে ভালো থাকতে:- সুবর্ণীতা মুখার্জি সিনিয়ার ডায়েটিশিয়ান ,পিয়ারলেস হসপিটাল

Spread the love

বর্ষাকালে ভালো
থাকতে…..

সুবর্ণীতা মুখার্জি
সিনিয়ারডায়েটিশিয়ান। পিয়ারলেস হসপিটাল

স্বাস্থ্য ডেস্ক ,অয়ন বাংলা নিউজ:-   গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন সবার অবস্থা হাঁসফাঁস সেইসময় আকাশে কালো মেঘ দেখলে মনটা নেচে ওঠে। এই বর্ষাকালে মেঘের আনাগোনা মনের প্রশান্তি আনে, কিন্তূ বর্ষা মানেই নোংরা-কাদা জলবন্দি জীবন। আর এই বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়াতে রোগ-জীবাণু অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে। তাই ভালো থাকতে এমন খাবারের দিকে নজর দিতে হবে যা পুষ্টিকর অথচ সহজলভ্য। সেই ভাবেই খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হবে।

(ক) খিচুড়ি:বর্ষাকালে সবার ইচ্ছে করে খিচুড়ি খেতে , এটি একটি উপাদেয় খাদ্য তেমনি একটি স্বাস্থ্যকর খাবার যাতে পুষ্টির নিখুঁত ভারসাম্য থাকে। চাল, ডালের সংমিশ্রণ আপনাকে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম প্রদান করে। অনেকে এর পুষ্টিগুণ বাড়াতে শাকসবজিও যোগ করেন।

(খ) দই : প্রোবায়োটিকস, বিশেষ করে দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। প্রতিদিন টকদই খেতে পারেন। এতে শরীর ভালো থাকবে। এতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, ভিটামিন বি ২, ভিটামিন বি ১২ আছে।

(গ) বর্ষাকালীন সবজি:এই সময় প্রচুর পরিমাণে লাউ, করোলা, চিচিঙ্গা, টমেটো ইত্যাদি সবজি পাওয়া যায় কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখতে হবে কাঁচা সবজির পরিবর্তে রান্না করা সবজি খাওয়াই ভালো।এতে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই কম থাকে।

(ঘ) আদা, রসুন ইত্যাদি: আদা, রসুন ,লবঙ্গ ,এলাচ প্রভৃতি মসলা গুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে সেইজন্য প্রত্যেকদিনই খাবারের সাথে এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

(ঙ) ফল: আপেল, জাম, লিচু, চেরি, পীচ, পেঁপে, পেয়ারা, নাশপাতি এবং ডালিম ইত্যাদি মরসুমী ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করার জন্য ডায়েটে রাখতে হবে।

(চ) পর্যাপ্ত জল:শরীরের হাইড্রেশান বজায় রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। এই সময় জলবাহিত বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয় তাই ফুটিয়ে জল খাওয়া ভাল।

(ছ) এড়িয়ে চলুন: কাটা ফল, ভাজা খাবার, জাঙ্ক ফুড বা রাস্তার যে কোনো খাবার। সঙ্গে এড়িয়ে চলুন সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া
এই খাবারগুলি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে বদহজম, ডায়রিয়া এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা হতে পারে।

কী করবেন, কী করবেননা

(ক) এই ঋতুর তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধির অনুকূল, বিশেষ করে সবুজ শাক-সবজিতে। সুতরাং, খাওয়ার আগে এই সবজিগুলিকে ভালভাবে ধুয়ে উচ্চ তাপে রান্না করা উচিত।

(খ) ঠান্ডা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। খাওয়ার আগে এটি সঠিকভাবে গরম করতে হবে। ফ্রিজে সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে হবে।

(গ) পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে, রান্না করার সময় বা খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। হাত ধোয়ার পাশাপাশি রান্নার আগে চুল ভালোভাবে বেঁধে এবং নখ কাটতে হবে।

(ঘ) ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি তেমনি বাড়ির ভিতর এবং চারিদিকটা পরিষ্কার থাকে সে দিকেও নজর দিতে হবে।

(ঙ) কোথাও যেন জমা জল না থাকে। থাকলে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, জমা জলের মধ্যে মশার লার্ভা জন্ম নেয় যার থেকে ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া প্রভৃতি রোগ দেখা যায়।

উপসংহার: শুধুমাত্র বর্ষাকালই নয়, সব সময় শরীর ভালো রাখার জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য আমাদের ব্যালেন্স ডায়েট খেতে হবে। নিয়মিত শরীর চর্চা ,পুষ্টিকর খাদ্য এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সারাবছরই মেনে চলা উচিত । পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখাও আমাদের কর্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.