আগামী ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সারা ভারত বনধ পালন করার  আবেদন বিভিন্ন গণসংঘটন ও রাজনৈতিক দলের

Spread the love

আগামী ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সারা ভারত বনধ পালন করার  আবেদন বিভিন্ন গণসংঘটন ও রাজনৈতিক দলের

আগামী ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সারা ভারত বনধ পালন করার  আবেদন ,সমগ্র ভারতের প্রায় ৫০০ কৃষক ও গণ সংগঠন মিলে গত ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবসে দিল্লী যাত্রা করে কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কৃষকদের উপর জল কামান ও ক্যাদানে গ্যাস ছেড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সরকারের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কৃষকরা দিল্লী শহর অবরোধ করে রেখেছেন।
,
, এই ৫০০টি সংগঠন মিলে আগামী ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ভারতব্যাপী হরতালের ডাক দিয়েছে।
কেন এই হরতাল ?
বন্ধুগন, দেশে যখন লক ডাউন চলছে তখন কেন্দ্র সরকার কৃষক ও শ্রমিকদের যাবতীয় অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য একের পর এক আইন পাস করেছে। তিন মাস আগে কেন্দ্র সরকার তিনটি কৃষি বিল পাস করেছে। রাষ্ট্রপতি সইও করেছেন। এখন তা কৃষি আইন। এক, কৃষক যে মাণ্ডিতে সরকার নির্ধারিত দামে ফসল বিক্রি করেন তা আর থাকবে না, বে সরকারীভাবে পুঁজিপতিরা কৃষকের ফসল কিনবে, নীল চাষের মতো চুক্তি করে দেশ ও বিদেশের কোম্পানী কৃষকদের জমিতে চাষ করাবে কিন্তু ফসলের দাম আর ফসলের ভালো মন্দ বিচার করার অধিকার কোম্পানীর হাতে থাকবে। কেন্দ্র সরকার বলছে MSP ও সরকারী মাণ্ডি থাকবে কিন্তু আইনে কোথাও লেখা নেই, সরকারি MSP বা নূন্যতম নির্ধারিত মূল্য থাকবে। কৃষকরা এই নূন্যতম মূল্য আইন হিসাবে চান। কিন্তু সরকার লিখিত ভাবে আইন করতে চায় না। যেমনটা CAA আইনে বলা হয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত অমুসলিম 2014 সালের আগে অত্যাচারিত হয়ে ভারতে এসেছেন তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন কিন্তু আবেদনকারী কত দিনে নাগরিকত্ব পাবেন তা বলা নেই। আবার কিভাবে উদ্বাস্তুরা অত্যাচারিত হওয়ার কাগজ যোগাড় করবে ,কী কী কাগজ লাগবে তাও বলা হয়নি। তাই CAA আইনে উদ্বাস্তুরা যেমন নাগরিকত্ব হারাবেন তেমনি বর্তমান কৃষক আইনে কৃষক তার জমি জিরাত হারাবেন।
দুই, আমরা জানি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন, চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ, তেল, সহ আরো বেশ কিছু জিনিস সরকারের দায়িত্বে ছিল, অর্থাৎ দেশে সংকট থাকলে বা বাজারে দাম বেড়ে গেলে সরকার গুদাম জাত জিনিসপত্র বের করে বন্টন করতে পারত। সেই আইন তুলে দিয়ে পুঁজিপতিদের হাতে গুদাম জাত করার পুরো ছুট দিয়ে রেখেছে এই আইনে। ফলে বড় বড় কোম্পানী কৃষকের কাছে কম দামে এই সমস্ত জিনিস কিনে গুদাম জাত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে উঁচু দামে বিক্রি করবে। এই আইনে বড় বড় কোম্পানিকে এই আইনে সেটাই ছুট দেওয়া হয়েছে। আগের আইনে কোনো কোম্পানী বা বড় ব্যবসায়ী কোনো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস গুদামজাত করলে সরকার সেই গুদামজাত জিনিস বের করতে পারত কিন্তু নতুন আইনে সরকারের আর এই অধিকার থাকবে না। কোম্পানি বা বড় ব্যবসায়ীর কাছে কৃষক সহ দেশের সবাই বেশি দামে জিনিস কিনতে বাধ্য হবে। তাই এই আন্দোলন শুধু কৃষকের নয়, এই আন্দোলন প্রত্যেক ভারতবাসীর।


তিন, কোম্পানীর সঙ্গে যে কৃষক চুক্তি করবে সেই কৃষকের ফসল যদি বন্যায়, খড়ায় বা অন্য কোনো কারণে নষ্ট হয় বা ফসলের গুণমান খারাপ হয়, তাহলে লোকসান কৃষককে দিতে হবে। এই লোকসান তুলতে কোম্পানী কৃষকের যে কোনো সম্পত্তি দখল করে নিবে। উল্টে কৃষককে যদি কোনো কোম্পানী কম দাম দেয়, তাহলে কৃষক ম্যাজিসট্রেট কোর্টে আবেদন করবে। এই ম্যাজিস্ট্রেট অফিসে কার কথা চলবে একটু ভাবুন। দুই মন ধান বা দুই মন পাট বিক্রি করে তারিখে তারিখে কোর্টে যেতে হবে।
এই ধরুন কোন এলাকায় হিমঘর আছে। এই হিম ঘরে আলু চাষিরা আলু রাখছেন। কিন্তু নতুন আইন প্রয়োগ করে হিম ঘরের মালিক নিজে আলু স্টোর করতে পারবে কিংবা এই সমস্ত হিম ঘর কোম্পানী একাই সমস্ত ভাড়া অগ্রিম দিয়ে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসবে এবং নিজেরাই আলু স্টক করবে। এতে আলু চাষী শেষ হয়ে যাবে। এই ভাবে সমস্ত কৃষি ব্যবস্থা যেমন ধান, পাট, চা, ভুট্টা সহ একে একে সমস্ত কৃষি ক্ষেত্রে কোম্পানী রাজ কায়েম হবে। এতে শুধু কৃষক ধ্বংস হবে তা নয়, তার সঙ্গে দেশের আপামর জনগণকে চড়া দামে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে খেতে হবে। এই জন্যই এই আন্দোলন সবার। তাই আসুন আগামী ৮ ডিসেম্বর ভারত বনধ পালন করি।
আমরা বহু মানুষ আছি যাঁরা মনে করি, বাহ বেশ ওরা তো আন্দোলন করছে। এইবার সরকার বুঝবে। কিন্তু আপনি যদি এই আন্দোলনের পক্ষে হোন, তাহলে আপনাকে এই বনধকে সফল করতে হবে।

এই বনধ নিজের প্রয়োজনে বনধ। বেঁচে থাকার জন্য বনধ, ফ্যাসিবাদের হাত থেকে আর কোম্পানী রাজ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বনধ। আসুন, এই বনধ সফল করে নিজের অধিকার আদায় করি, সঙ্গে দিল্লীর রাজপথে বসে থাকা কৃষকদের পক্ষ নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে জানান দিই, আমরা কৃষকের পক্ষে আমরা এই কালা কানুনের আর কোম্পানী রাজের বিপক্ষে।
সবাই আওয়াজ তুলি জয় জওয়ান, জয় কিষান। আগামী ৮ ডিসেম্বর ভারত বনধ। এই বনধ আপনার, এই বনধ আমার। এই বনধ দেশ ও দশের স্বার্থে। হ্যাঁ ৮ ডিসেম্বর ব্যবসা বন্ধ রাখুন,৮ ডিসেম্বর যানবাহন বন্ধ রাখুন, ছাত্র পথে নামুন।
বিনীত-
বাংলা গণ মোর্চার পক্ষে-
তায়েদুল ইসলাম , এসডিপিআই
সঞ্চয় সরকার, এনডিপিআই
নজরুল ইসলাম, মূলনিবাসী পার্টি
পাশারুল আলম, টাসো
আবুল হোসেন , মুসলিম লীগ
আনিসুর রহমান, বিএনপি
শান্তনু মন্ডল, ডিএসপিআই

৫ ডিসেম্বর ২০২০।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.