আসাম কান্ডের প্রতিবাদে বিভিন্ন গণসংগঠনের ডাকে কোলকাতার অসম ভবনের সামনে আজ বিক্ষোভ কর্মসুচি

Spread the love

ওয়েব ডেস্ক :-  আজ কলকাতায় ,  উচ্ছেদের নামে গুলি চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১ টায় কোলকাতার অসম ভবন (মিডলটন স্ট্রিট :ল্যাণ্ডমার্কঃ জীবনদীপ বিল্ডিং)-এ জমায়েত হয়ে বিভিন্ন গণ সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।

আয়োজক বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে- বন্ধু,
আসামের নির্মম অমানবিক গণহত্যায় স্তম্ভিত সারা দেশ। একলা এক যুবককে তাড়া করে ঘিরে ধরছে বন্দুকধারি পুলিশবাহিনী। গুলি করছে। তারপর পেটাচ্ছে। মানুষটি বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ছে। তারপরও লাথিঘুসি। জেলাশাসকের দপ্তরের সাথে যুক্ত এক চিত্রসাংবাদিক, পুলিশ বাহিনীর সাথেই এসেছে, বারবার লাফিয়ে সেই মৃতপ্রায় মানুষটির বুকের ওপর পদাঘাত করছে সে, উল্লসিত ভঙ্গিতে। এত ঘৃণা এত বিদ্বেষ কোথায় নিয়ে যাবে দেশকে! আরএসএস-বিজেপির অমানবিকতা সমস্ত সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে।

দু জনের মৃত্যুর খবর ইতিমধ্যে এসেছে, অনেকে হাসপাতালে, মৃত্যু দশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। শিশুদেরও রেয়াত করা হয় নি। গণহত্যার নেতৃত্বে আসামের দারাং জেলার পুলিশ সুপার, যিনি স্বয়ং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ভাই। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনেই আসাম পুলিশ এই জঘন্য অমানবিক অপরাধ সংগঠিত করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এই গণহত্যার ইন্ধন হুগিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, “অনুপ্রবেশকারীদের ধ্বংস করা হচ্ছে” এবং “অসমীয়া আদি বাসিন্দাদের” মধ্যে জমি পুনর্বণ্টনের জন্য “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের” উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এভাবে মনগড়া “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের” আইনীভাবে অর্জিত জমি কেড়ে নিয়ে তা মনগড়া “আদি বাসিন্দাদের” হাতে তুলে দেওয়ার ভাষাই হল নির্লজ্জ বহিরাগত-আতঙ্ক ও নির্দিষ্ট জাতি-ধর্ম-পরিচিতির মানুষকে নিধন করার সঙ্কেত। এই বক্তব্যের অনিবার্য পরবর্তী ধাপ গণহত্যা।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসামে এনআরসি ও সিএএ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বারংবার মুসলিমদের “উইপোকা” তকমা দিয়েছেন। ক্ষমতাসীনদের এ’জাতীয় অমানবিক ভাষা সবসময় নির্দিষ্ট জাতিকে নিধন করার অভিযানের দিকেই নির্দেশ করে। শাসকদলের কর্মী ও রাষ্ট্রকে ইঙ্গিত দেয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আক্রমণের লক্ষ্য বানিয়ে মুছে ফেলার।

মুখ্যেমন্ত্রীর সবুজ সঙ্কেতেই সংগঠিত হয়েছে এই নৃশংস গণহত্যা্, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।
ঘাতক পুলিশবাহিনীর নেতা মুখ্যমন্ত্রীর ভাই তথা দারাংয়ের এসপিকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

উচ্ছেদ অভিযান এক্ষুনি বন্ধ করতে হবে, “অনুপ্রবেশমুক্ত” করার নামে বাঙালি মুসলমানদের নিধন যজ্ঞ বন্ধ কর*
*বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে সমগ্র ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে সবগুলো অপরাধীকে শাস্তি দিতে হবে

মানবতার শত্রু আরএসএস-বিজেপির বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর শনিবার আসাম ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্রছাত্রী-যুব ও মহিলাদের গণসংগঠন, নাগরিক সংগঠন, মঞ্চ, মানবাধিকার সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ।

আহ্বায়ক সংগঠনের পক্ষে- বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ, একুশের ডাক, জয় ভীম ইণ্ডিয়া নেটওয়ার্ক, অল ইণ্ডিয়া স্টুডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশন, বন্দীমুক্তি কমিটি, সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সমিতি, বিপ্লবী যুব অ্যাসোসিয়েশন, অল ইণ্ডিয়া পিপলস ফোরাম, পিপলস ফ্রন্ট অব ইণ্ডিয়া, সহমন, জাতীয় বাংলা সম্মেলন, ভাষা ও চেতনা সমিতি, পশ্চিমবঙ্গ গণসংস্কৃতি পরিষদ, ফ্রেণ্ডস অব ডেমোক্রেসি।

 

প্রকাশ থাকে যে অসমে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে মৃত্যু হল দুই বিক্ষোভকারীর। আহত একাধিক, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার আসামের দরাং জেলার ঢোলপুর গরুখুটি এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আসাম সরকারের অধিকৃত ‘ফার্মিং প্রজেক্ট’ (Farming Project) -এর জমিতে জবরদখল করে থাকা মানুষদের ওঠাতে গিয়ে প্রাথমিক ভাবে তাদের সঙ্গে পুলিশ বচসায় জড়িয়ে পড়ে। এরপর দুপুর সাড়ে ১২ টা নাগাদ আসাম পুলিশ যখন জবরদখলকারীদের উৎখাত করতে যায়, তখন স্থানীয় কয়েক হাজার বাসিন্দা পুলিশ কর্মীদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। একসময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ করে পাথর ছুঁড়তে থাকে এমনকি ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আক্রমণ করে বলেও অভিযোগ। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে এবং শূন্যে বেশকয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।

উল্লেখ্য, ফার্মিং প্রজেক্ট (farming project)- এর জায়গায় নতুন কিছু গড়ার জন্য ওই এলাকা জবরদখলকারীদের হাত থেকে মুক্ত করতে সম্প্রতি এক সিদ্ধান্ত নেয় আসাম মন্ত্রিসভায়।সেই মোতাবেক গত সোমবার ঢোলপুর বাজার, পশ্চিম ছুবা, ঢোলপুর ১ নম্বর সহ কয়েকটি এলাকায় উচ্ছেদ চালানো হয়। আসাম পুলিশকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসকের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ওই এলাকায় পৌঁছলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।

নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার সুশান্ত বিশ্ব শর্মা জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৯ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন, সেই সঙ্গে দু’জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। আহত ২ বিক্ষোভকারী সহ প্রত্যেককেই স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ওই সংঘর্ষের ঘটনার একটি ভিডিও সামনে এসেছে। যা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। আর ভিডিওটি সামনে আসতেই তা নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। আসাম রাজ্য পুলিশের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে কংগ্রেস সাংসদ বলেন ‘এটা একটি স্টেট-স্পনসর্ড ঘটনা। রাজ্যের ভাই এবং বোনেদের আমি সহমর্মিতা জানাই। ভারতের কোন সন্তানই এই জিনিস কাম্য করে না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.