বিপন্ন মানবতা যোগীর রাজ্যে দাদুর জন্য অক্সিজেন চেয়ে হলেন কেসের আসামী

Spread the love

নিউ:জ ডেস্ক :-  একটাই অপরাধ দাদুর জন্য চেয়েছিলেন একট ু অক্সিজেন ,এখন মাথার উপর ঝুলছে ক্রিমিনাল কেস ।সভ্য জগতে মধ্যযুগীয় বর্বরতা ।   তাঁর একটাই দোষ, তিনি তাঁর দাদুর জন্য টুইটে অক্সিজেনের সাহায্য  চেয়েছিলেন। Amethi Police মঙ্গলবার সন্ধেবেলা টুইট করে জানিয়েছে যে, তারা এক তরুণের বিরুদ্ধে একটি ক্রিমিনাল কেস দায়ের করেছে। কারণ তরুণটি টুইটারে অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন!

সোমবার সন্ধেবেলা  শসাঙ্ক  নামের এক ব্যক্তি টুইটে সোনু সুদকে -কে ট্যাগ করে অক্সিজেন সিলিন্ডার চান। তিনি কিন্তু তাঁর টুইটে Covid-19 বা অন্য রকম রোগের উল্লেখ করেননি।

শশাঙ্কের এক বন্ধু অঙ্কিত   সাড়ে আটটা নাগাদ বন্ধুর টুইটকে রিটুইট করেন এবং তিনি এক সংবাদ মাধ্যমের সিনিয়র এডিটরকেও পাশাপাশি টুইটারে সরাসরি মেসেজ পাঠান।

ওই সম্পাদক মধ্যরাত নাগাদ বিষয়টিতে সাড়া দেন। কোথাও কোনও মেডিক্যাল হেল্প লাগলে সাংবাদিকেরা যেমন তাঁদের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে বিষয়টা দ্রুত ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি অনুকূল করার চেষ্টা করেন, তিনিও তাই-ই করেছেন। আলাদা কাজের মধ্যে তিনি মন্ত্রী স্মৃতি ইরানীকে i-কে ট্যাগ করে দেন। কেননা ইরানি অমেঠিতে সাসংদ। Irani দ্রুত সাড়া দেন। বলেন তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।

ইতিমধ্যে Ankit ওই সিনিয়র সাংবাদিককে মেসেজ করে জানান, তাঁর বন্ধুর দাদু মারা গিয়েছেন। এই খবরটিও ওই এডিটর মন্ত্রীকে জানান। ইরানি সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন এবং সদ্য দাদুকে হারানো যুবকের জন্য সান্ত্বনাও দেন। এই ঘটনা জেনে অঙ্কিত ইরানিকে ধন্যবাদ দেন।

ঘটনা এইখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু না, তখনও কিছু বাকি ছিল। কেননা ততক্ষণে কোভিড-ক্রাইসিস ঘিরে রাজ্যের পরিস্থিতিও অনেক বদলে গিয়েছে। আতঙ্কে দিন গুনছে সকলে। কোভিড আক্রান্ত মানেই দুঃসহ টেনসন। তারমধ্যে অক্সিজেন চেয়ে টুইট করে একজন অজান্তেই টেনসন আরও বাড়িয়ে ফেলার অপরাধে অপরাধী হয়ে পড়লেন।

২৭ এপ্রিল বিকেলে Amethi District Magistrate Amethi Chief Medical Officer-কে একটি টুইট করে ওই সম্পাদকের পোস্টের বিষয়ে খোঁজ নেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শশাঙ্কের দাদু একটি বেসরকারি হাসপাতাসলে ভর্তি ছিলেন। তিনি হার্ট অ্যাটাক করে মারা গিয়েছেন। শশাঙ্ক বা ওই সাংবাদিক কেউই তাঁদের টুইটে কোভিডের কারণে এই অক্সিজেন-সন্ধান এ কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু তবুও বলা হয়, উক্ত দুই ব্যক্তি এই সঙ্কটকালে রাজ্যের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধেবেলাতেই Amethi Police শশাঙ্ক এবং সাংবাদিককে একটি টুইট করে বলে, এই পরিস্থিতিতে এই আচরণ শুধু গুজব ছড়ানো নয়, রীতিমতো criminal offence। police জানিয়ে দেয়, তারা অভিযোগ দায়ের করছে ভারতীয় পেনাল কোডের sections 188, 269 এবং 505 (1)(b) ধারায়, থাকছে  Epidemic Act-এর Section 3 এবং Disaster Management Act-এর Section 54-ও। পুলিস যদি কেসটা চালিয়ে যায় তবে এতে শশাঙ্কের জেলও হতে পারে।
কদিন আগে Uttar Pradesh Chief Minister Adityanath সাংবাদিকদের সঙ্গে করা একটি ভার্চুয়াল কথোপকথনে জানিয়েছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে অসামাজিক কাজকর্ম বা গুজব ছড়ানোর মতো বিষয়গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়াকেও এসব থেকে মুক্ত রাখার কথা বলেছিলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এ-ও জানিয়েছিলেন, রাজ্যে অক্সিজেনের কোনও ঘাটতি নেই!

ঠিক তার পরই শশাঙ্কের এই ঘটনা। সংশ্লিষ্ট মহলের মত, যাতে আপাত ভাবে মনে হবে রাজ্যে অক্সিজেন সঙ্কট চলছে। তাই আর যাতে কোনও রোগীর পরিবার এরকম কোনও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার না করে সেই বার্তা দিতেই শশাঙ্কের প্রতি এই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবহার।  একেই  বলে মানবতার নামে প্রহসন ।

সৌজন্য ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার জি নিউজ

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.