ঈদগাহের জন্য দেড় কোটি টাকার জমি দান করলেন দুই হিন্দু বোন, গোটা দেশ সাধুবাদ জানাচ্ছে

Spread the love

 

বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ, ইদগাহর জন্য দেড় কোটি টাকার জমি দান করলেন দুই হিন্দু বোন

ওয়েব ডেস্ক:- এ যে সম্প্রীতির ভারত বর্ষ , এ যে সংস্কৃতির ভারত বর্ষ । যখন বেশ কিছু অসাংবিধানিক ঘটনা ঘটে চলেছে ।চারিদিকে একটা ধর্মীয় মেরুকরণের বাতা বরণ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে তখন   এক অন্যন্য কীর্তি  এক হিন্দু পরিবারের ।  কিছুদিন আগেই হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে অশান্তি ছড়িয়েছিল দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরী-সহ বিভিন্ন রাজ্যে। সম্প্রতি ইদের দিনেও উত্তপ্ত হয়েছে দেশের বেশ কিছু প্রান্ত। মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্রে চলছে আজান ও হনুমান চালিশা বিতর্ক। এসবের সম্পূর্ণ উলটো চিত্র ধরা পড়ল উত্তরাখণ্ডে । বাবা তাঁর শেষ ইচ্ছায় ইদগাহর  জন্য জমি দান করতে চেয়েছিলেন, সেই ইচ্ছাপূরণ করলেন সন্তানেরা। এলাকায় ইদগাহর জন্য দেড় কোটি টাকা মূল্যের ৪ বিঘা জমি দান করলেন হিন্দু পরিবারের দুই বোন। উত্তরাখণ্ডের সম্প্রীতির এই উদাহরণ এখন মানুষের মুখে মুখে। ঘটনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ।

ঘটনাটি উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর জেলার কাশিপুরের। দুই তরুণীর নাম সরোজ রস্তোগি ও অনিতা রস্তোগি । সরোজ ও অনিতার বাবা ব্রজনন্দন প্রসাদ রস্তোগির মৃত্যু হয় ২০০৩ সালে। মৃত্যুর আগে তিনি নিকটাত্মীয়দের জানান, নিজের চার বিঘা জমি এলাকার ইদগাহর জন্য দান করতে চান। যদিও এই কথা জানা ছিল না সরোজ ও অনিতার। পরে তাঁরা আত্মীয়দের কাছে সবটা শোনেন। এবং ভাই রাকেশের সঙ্গে কথা বলে বাবার শেষ ইচ্ছাপূরণে উদ্যোগ হন। রবিবার আইন মেনে ইদগাহ লাগোয়া নিজেদের চার বিঘা জমি দান করেন ইদগাহ কমিটিকে।

এই বিষয়ে সরোজ বলেন, “আমরা কিছুই করিনি। বাবার ইচ্ছে মতো কেবল জমি দান করেছি। তিনি ছিলেন একজন উদার মানুষ। সব ধর্মকে সম্মান করতেন।” সরোজ আরও জানান, তাঁদের বাবা প্রতি বছরই ইদগাহ কমিটিকে সমবেত নমাজের ব্যবস্থার জন্য কিছু অর্থ দান করতেন।

ইদগাহ কমিটির অন্যতম প্রধান সদস্য হাসিন খান বলেন, ‘‘দুই বোন সাম্প্রদায়িক ঐক্যের জীবন্ত উদাহরণ। ইদগাহ কমিটি তাঁদের কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবে। দুই বোনকে সম্মানিত করা হবে।’’ তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশ যখন সাম্প্রদায়িক উন্মাদনায় খানিক দিশাহারা, সেই পরিবেশে এই বোনদের মহৎ কাজ বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”

গোটা দেশে এই মহৎ কাজ কে সাধুবাদ জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.